বগুড়ার গাবতলীতে মাদ্রসা ছাত্র নাজিম উদ্দীন (১৮) খুনের ঘটনায় মুল আসামি রিমন ওরফে ইমন (২০) কে পুলিশ চকবোচাই এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করলে, আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মুঞ্জুর করে। রিমন ওরফে ইমন সোন্দাবাড়ী দক্ষিনপাড়া গ্রামের মোস্তার ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহতের মা রাশেদা বেগম বাদী হয়ে ১৩ জনের নামে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে।
উল্লেখ্য ২৩ ফেব্রুয়ারী বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় দাঁড়াইল বাজারের পুর্বপার্শ্বে ক্ষিদ্রপেরী সড়কের একটি ভাঙ্গারীর দোকানের পাশে তরফসরতাজ সিনিয়র ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রসার আলিম দ্বিতিয় বর্ষের ছাত্র নাজিম উদ্দীনকে দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে খুন করে। নিহত নাজিম উদ্দীন গাবতলী সদর ইউনিয়নের তরফসরতাজ পুর্বপাড়া (দাঁড়াইল) গ্রামের ভ্যানচালক ফরিদ উদ্দীনের ছেলে।
স্থানীয় সুত্র জানায়, নাজিম উদ্দীনের সাথে গাবতলীতে করোনার টিকা নেয়ার সময় ২২ ফেব্রুয়ারী বেলা ১২ টায় কতিপয় যুবকদের সাথে তার বিরোধ হয়েছিল। ওই ঘটনার জেরধরে সন্ধ্যায় দাঁড়াইল বাজার এলাকার ঘটনার স্থানে অজ্ঞাত কয়েকজন যুবক নাজিম উদ্দীনকে ডেকে নিয়ে ক্ষিদ্রপেরী সড়কের একটি ভাঙ্গারীর দোকানের পার্শ্বে অন্ধকারে গিয়ে বাক বিতন্ডয়ায় লিপ্তহয়। একপর্যায়ে অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত যুবকরা মাদ্রাসা ছাত্র নাজিম উদ্দীনের পাজরে ও পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
নাজিম উদ্দীনের চিৎকার শুনে বাজারের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার বগুড়া শহীদ জিয়াউর নরহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (শজিমেকে) ভর্তি করায়। চিকিৎসাধিন অবস্থায় ১ ঘন্টাপর রাত ১০ টায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার স্থল থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পুলিশ ২ টি মোটর সাইকেল উদ্ধার করে। নিহত নাজিম উদ্দীনের মা রাশেদা বেগম বাদী হয়ে গাবতলী মডেল থানায় ২৪ ফেব্রুয়ারী ১৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ২৫ ফেব্রুয়ারী চকবোচাই এলাকাহতে হত্যার মুল আসামি সোন্দাবাড়ি দক্ষিনপাড়া গ্রামের মোস্তার ছেলে রিমন ওরফে ইমনকে পুলিশ গ্রেফতার করে।
এব্যপারে গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সিরাজুল ইসলাম সিরাজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নাজিম উদ্দীন খুনের মুল আসামি ইমনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে, বিজ্ঞ বিচারক ইমনের ৩ দিনের রিমান্ড মুঞ্জুর করে। তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ ইফতেখায়রুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মামলার অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।