খুলনার দিঘলিয়া ভৈরব নদীতে নির্মাণাধীন ভৈরব সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধের উপক্রম। উর্ধতনমহল জায়গা মত সেতুর নির্মাণ কাজের অগ্রগতির অন্তরায় না খুঁজে বারবার মাঠ পর্যায়ে এসে দৌড় ঝাঁপ সাধারণ মানুষকে একদিকে যেমন ভাবিয়ে তুলছে, অন্য দিকে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, আদৌ সেতু নির্মাণ হবে তো?
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপ-সচিব ফাহমিদা হক খান ভৈরব সেতুর কাজের অগ্রগতির খোঁজ নিতে সরেজমিনে সেতু এলাকা পরিদর্শনে আসেন। তিনি কাজের অগ্রগতি ১৫ মাসে ৩ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে এ তথ্য জেনে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কাজের গতি বাড়ানোর তাগিদ প্রদান করেন। উপ-সচিব শনিবার সন্ধ্যায় ভৈরব সেতুর পূর্বপাশ দিঘলিয়া উপজেলার দেয়াড়া ইউনাইটেড ক্লাব মাঠে সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিঃ (করিম গ্রুপ) এর অফিস প্লাস বেসক্যাম্পে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সাথে ভৈরব সেতুর কাজের সামগ্রিক অগ্রগতি নিয়ে মতবিনিময়কালে এই অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
মত বিনিময়কালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সেতুর তদারকি সংস্থা খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনিসুজ্জামান মাসুদ, ঢাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগ (ব্রিজ ইউং) এর নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপ্না বেগম, খুলনা সড়ক বিভাগ-২ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ মিজানুর রহমান পাটোয়ারী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান, ভৈরব সেতুর প্রজেক্ট ম্যানেজার এস এম নাজমুল, ডি পি এম মোঃ মিজানুর রহমান, ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মাহবুবুর রহমান, প্রকৌশলী মোঃ মিজানুর রহমান, লটারিয়ান শেখ নাসির উদ্দিন প্রমুখ।
উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর ভৈরব সেতু নামে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায়। এরপর ২০২০ সালের ২৭ জুলাই খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এর খুলনা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ভৈরব নদীর উপর সেতু নির্মাণ কাজের দরপত্র আহবান করেন। প্রক্রিয়া শেষে ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিঃ (করিম গ্রুপ) নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ভৈরব সেতুর নির্মাণ কাজ দেওয়ার বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ১৩ দিন পর ২৬ নভেম্বর ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। সেতুটির মোট দৈর্ঘ্য হবে ১ দশমিক ৩১৬ কিলোমিটার। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬’শ ১৭ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে মূল সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৩ কোটি টাকা। ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮১ কোটি টাকা। বাকি টাকা সেতু সংক্রান্ত অন্যান্য কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে।
২০২২ সালের ২৭ নভেম্বর সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা।কিন্তু কার্যাদেশ পাওয়ার ১৫ মাস পার হলেও কাজের অগ্রগতি খুবই হতাশাব্যঞ্জক। ভৈরব সেতুর পিলার বসবে মোট ৩০ টি। প্রত্যেক পিলারের জন্য ১০ টি টেস্ট পাইলিং করতে হবে। সেই হিসেবে মোট টেস্ট পাইলিং হবে ৩০০ টি। এ পর্যন্ত হয়েছে মাত্র ৩০ টি। কাজের অগ্রগতি ৩ দশমিক ১ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড.মসিউর রহমান, স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী ও খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনিসুজ্জামান মাসুদ শুরু থেকে ভৈরব সেতুর কাজের গতি আনায়ন এবং দ্রুত ভৈরব সেতুর কাজ সম্পন্ন করার প্রাণান্তর চেষ্টা চালিয়ে আসলেও ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়া, রেলওয়ের জায়গার মালিকানা স্থানান্তরিত না হওয়া ও ৩০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ না হওয়ার কারণে সেতুর নির্মাণ কাজে গতি আসছে না। এ সকল জটিলতা দ্রুত অপসারণে কোথায় অন্তরায় এবং কোনো অশুভশক্তি পর্দার আড়ালে থেকে ষড়যন্ত্র করছে কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখতে হবে ভৈরব সেতু বাস্তবায়নের সকল উর্ধতনমহলের। ভৈরব সেতুর কাজের এ অগ্রগতি দেখে খুলনাবাসী ক্রমান্বয়ে হতাশ হচ্ছেন। ভৈরব সেতুর নির্মাণ কাজের অগ্রগতির অন্তরায় তিন কারণ হচ্ছে মূল সেতুর পূর্ব পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য সাধারণ মানুষের ভূমি অধিগ্রহণ, মূল সেতুর পশ্চিম পাড়ে খুলনা মহানগরীর কুলিবাগান থেকে মূল সেতু পর্যন্ত সড়ক নির্মাণে রেলওয়ের জায়গার পাবলিক বন্দোবস্ত পরিবর্তন করে সড়ক ও জনপথের নামে মালিকানা স্থানান্তরিত করা ও ওজোপাডিকোর সেতু সড়ক এলাকার ৩০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ করা। এই তিনটি সমস্যার সাথে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সেতু বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষের সেই বিষয়টির উপর কঠোর কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। সেতুর নির্মাণ কাজের অগ্রগতির অগ্রগতি আনায়নের দায়িত্ব সেতু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। ঠিকাদারের নয়। বার বার সমস্যা সমাধানের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করে সেতু এলাকা পরিদর্শন করে খোঁজ নিলে কি সেতু নির্মাণে গতি আসবে এটায় দিঘলিয়া তথা খুলনার বিজ্ঞমহলের জিজ্ঞাসা।
২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর ভৈরব সেতু নামে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায়। এরপর ২০২০ সালের ২৭ জুলাই খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এর খুলনা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ভৈরব নদীর উপর সেতু নির্মাণ কাজের দরপত্র আহবান করেন। প্রক্রিয়া শেষে ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিঃ (করিম গ্রুপ) নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ভৈরব সেতুর নির্মাণ কাজ দেওয়ার বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ১৩ দিন পর ২৬ নভেম্বর ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। সেতুটির মোট দৈর্ঘ্য হবে ১ দশমিক ৩১৬ কিলোমিটার। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬’শ ১৭ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে মূল সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৩ কোটি টাকা। ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮১ কোটি টাকা। বাকি টাকা সেতু সংক্রান্ত অন্যান্য কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে।
২০২২ সালের ২৭ নভেম্বর সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা। কার্যাদেশ পাওয়ার সাড়ে ১৪ মাস পার হলেও কাজের অগ্রগতি খুবই হতাশাব্যঞ্জক। ভৈরব সেতুর পিলার বসবে মোট ৩০ টি। প্রত্যেক পিলারের জন্য ১০ টি টেস্ট পাইলিং করতে হবে। সেই হিসেবে মোট টেস্ট পাইলিং হবে ৩০০ টি। এ পর্যন্ত হয়েছে মাত্র ৩০ টি। কাজের অগ্রগতি ৩ দশমিক ১ শতাংশ।প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড.মসিউর রহমান, স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী ও খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনিসুজ্জামান মাসুদ শুরু থেকে ভৈরব সেতুর কাজের গতি আনায়ন এবং দ্রুত ভৈরব সেতুর কাজ সম্পন্ন করার প্রাণান্তর চেষ্টা চালিয়ে আসলেও ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়ার কারণে সেতুর কাজে গতি আসছে না। ভৈরব সেতুর কাজের এ অগ্রগতি দেখে খুলনাবাসী ক্রমান্বয়ে হতাশ হচ্ছেন।