মণিরামপুরে ভয়-ভীতি দিয়ে ৮ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে আবদুর রহমান নামে এক পার্ক মালিককে আটক করেছে পুলিশ। পৌর এলাকার তাহেরপুর গ্রামের গোলাম রসুলের ছেলে আবদুর রহমান পৌর এলাকার কথিত আল-আমিন পার্কের মালিক। নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থীকে ভয়-ভীতিসহ তার দরিদ্র পিতা-মাতাকে হত্যার হুমকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রহমান এ অপকর্ম চালিয়ে আসছিল। এক পর্যায় ঘটনা ফাঁস হয়ে পড়লে ওই শিক্ষার্থী রহমানের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করে। ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা আইনি সহায়তা নিতে থানায় যেতে চাইলে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয় তাদের।
ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষার্থীর মা বলেন, তাহেরপুর গ্রামের কথিত একটি পার্কের মালিক আবদুর রহমান (৪৮) এবং তাদের বাড়ি একই এলাকায়। তারা দরিদ্র হওয়ায় প্রতিদিন সকালে তিনি পরের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতে যান এবং তার স্বামী শ্রমিকের কাজ করতে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে যান। এ সুযোগে আবদুর রহমান তার বাড়িতে এসে ভয়-ভীতি দিয়ে মেয়ের সর্বনাশ করেছে।
নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর মামা বলেন, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে আবদুর রহমান ঘরে ঢুকে শিক্ষার্থীকে নির্যাতন চালাতে থাকলে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে বাড়ির সামনে অবস্থান নেয়। এক পর্যায় ঘটনা বেগতিক দেখে ধর্ষক আবদুর রহমান দৌড়ে পালিয়ে যায়। এরপর ওই রাতে তিনি থানায় গেলে তাকে থানা থেকে ডেকে এনে বিষয়টি শালিশের মাধ্যমে নিস্পত্তির মাধ্যমে অর্থ দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করা হয়।
এরপর ভাড়া বাড়িতে থাকা তার বোনের পরিবারকে উচ্ছেদের জন্য বাড়ি মালিককে চাপ দেয় ধর্ষক আবদুর রহমান। তিনি আরও জানান তার ভগ্নিপতি এ ঘটনায় গত বুধবার রাতে থানায় মামলা করেন। পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে থানার এসআই আশরাফুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে আবদুর রহমানকে আটক করেন।
পাশবিক নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থী জানান, তাকে ভয়-ভীতি দিয়ে এবং তার মা-বাবাকে হত্যার হুমকি দিয়ে তার উপর অত্যাচার করা হয়েছে। সে তার উপর নির্যাতনের বিচার চায়।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান মোড়ল বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারটি তাকে বিষয়টি জানালে তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনে সহযোগিতা করেছেন।
থানার ওসি (তদন্ত) গাজী মাহবুবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর পিতা বাদি হয়ে মামলা করায় অভিযুক্ত আবদুর রহমানকে আটক করা হয়েছে।