খুলনা জেলার কৃষকেরা আমন ধান উৎপাদনে সফলতার পর দ্বিগুণ উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে মাঠে নেমেছেন বোরো চাষে। লক্ষ্য এবার নিজস্ব চাহিদা পূরণ করে সরকারের খাদ্য মজুদে ধান ক্রয়কে শক্তিশালী করা। তাইতো দিঘলিয়ার ধান চাষিদের সময় কাটছে নিরলস পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে। কৃষকরা ঝুঁকে পড়েছেন বোরো ধান চাষে। কেউবা বীজতলা তৈরি, কেউবা ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। দিঘলিয়ার কৃষকদের মাঝে সরকারিভাবে প্রণোদনা দিতে দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে সার ও ধান বীজ বিতরণ করা হয়েছে।
দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর ও কৃষক সূত্রে জানা যায়, দিঘলিয়া উপজেলায় ২০২১-২২ অর্থ বছরে রবি মৌসুমে কষকেরা ব্যাপকভাবে বোরো ধান চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। এবার দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন ৪৯০০ হেক্টর। দিঘলিয়ায় এ লক্ষ্যমাত্রা ১০০ ভাগ অর্জিত হয়েছে। দিঘলিয়ায় এ বছর ১০৭৫ হেক্টর জমিতে উফশী জাতের এবং ৩৮২৫ হেক্টর জমিতে হাইব্রীড জাতের ধান চাষ করা হয়েছে।
উফশী জাতের ধানের মধ্যে ব্রি-২৮ ধান ৯২০হেক্টর, ব্রি-৫০ ধান ২০ হেক্টর, ব্রি-৫৮ ধান ১০ হেক্টর, ব্রি-৬৭ ধান ৬০ হেক্টর, ব্রি-৮৪ ধান ১০ হেক্টর, ব্রি-৮৬ ধান ৫০ হেক্টর ও ব্রি-৯২ ধান ৫ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে।
হাইব্রীড জাতের ধানের মধ্যে হীরা জাতের ধান ১৩৫০ হেক্টর, এসএল ৮ এইচ জাতের ধান ১১৮০ হেক্টর, এসিআই-১ জাতের ধান ২৫০ হেক্টর, সিনজেনটা ১২০৩ জাতের ধান ২৬০ হেক্টর, সিনজেনটা ১২০৫ জাতের ধান ৩৫০ হেক্টর, তজগোল্ড জাতের ধান ১০০ হেক্টর, জনক রাজ জাতের ধান ৮৫ হেক্টর, ব্যাবিলন জাতের ধান ৮০ হেক্টর, ইস্পাহানি জাতের ধান ৩৫ হেক্টর, দানায় দানায় ছক্কা জাতের ধান ৩৫ হেক্টর, ময়না (লালতীর) জাতের ধান ৩০ হেক্টর, শক্তি জাতের ধান ৩০ হেক্টর, আবতাব জাতের ধান ১৫ হেক্টর ও পাইওনিয়ার জাতের ধান ২৫ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে।
দিঘলিয়া উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি মোঃ আবু সাঈদ এ প্রতিবেদককে জানান, দিঘলিয়ার কৃষকেরা খুবই পরিশ্রমী। তাঁরা ধান চাষে আধুনিক প্রযুক্তির সরকারি সহায়তা পেলে তাদের উৎপাদনের মাধ্যমে স্বনির্ভর দিঘলিয়া গঠনে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করতে পারবে। তিনি কৃষিখাতে সরকারিপ্রণোদনার সকল সুযোগ-সুবিধা যাতে প্রকৃত কৃষকেরা পায় তার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানান। দিঘলিয়ার বোরো কৃষক ও কৃষকলীগ নেতা মোল্লা কামাল হোসেন এ প্রতিবেদককে জানান, দিঘলিয়ার প্রকৃত কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও উন্নত পদ্ধতির চাষের ব্যাপারে মাঝে মাঝে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আধুনিক কৃষক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। দিঘলিয়া উপজেলার দিঘলিয়া গ্রামের কৃষক ফিরোজ শেখ। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, কৃষকেরা এবার সরকারিভাবে প্রণোদনা সহায়তা পেয়ে খুবই খুশি ও উৎসাহিত হয়ে বোরো ধান চাষে ঝুঁকে পড়েছে। তিনি জানান, তিনি নিজে ৪২ শতক জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন। তিনি সব সময় তাঁর জমির ধানের পরিচর্যার ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেন। তিনি তাঁর জমিতে ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন।
দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইশখানা গ্রামের বোরো চাষি মোল্লা রাকিব, মোল্লা কামরুল ও মোল্লা কামাল হোসেন। তাঁরা এ প্রতিবেদককে জানান, এবার বোরো ধানের চেহারা ভালো। আবহাওয়া অনুকূল হলে ধানের ফলন ভালো হবে।
দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ আবদুস সামাদ এ প্রতিবেদককে জানান, দিঘলিয়ার কৃষকদের বোরো ধান চাষে উৎসাহ ও উদ্বুদ্ধ করতে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। প্রণোদনার আওতায় উফশী জাতের ধান চাষে ৬০০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ৫ কেজি ধান বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে। ২১০০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ২ কেজি করে হাইব্রীড জাতের ধানবীজ বিতরণ করা হয়েছে।