খুলনার রূপসা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে অবৈধ কয়লার চুল্লী। এসব কয়লা পোড়ানো ধোঁয়ায় বিনষ্ট হচ্ছে চির চেনা প্রকৃতি ও পরিবেশ। এমনকি হারিয়ে যেতে বসেছে জীব বৈচিত্র। এ ছাড়া কালো ধোয়ায় মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকার মানুষ। এ অবৈধ কয়লার চুল্লী গড়ে উঠলেও মানা হচ্ছে না নীতিমালা। এদিকে, চোখের সামনে এসব কয়লার চুল্লী চালু থাকলেও রহস্যজনক কারণে নিরব রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কয়লার চুল্লী ভেঙ্গে দেওয়া এবং জরিমানা করা হলেও বন্ধ হয়নি এসব অবৈধ কয়লার চুল্লী। স্থানীয়দের অভিযোগ, বসতবাড়ির পাশে কয়লার চুল্লী’র বিষাক্ত ক্ষতিকর ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট, হার্টের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্কদের মধ্যে চর্মরোগের প্রবণতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ধোঁয়ার কারণে ফসল, গাছপালা বিনষ্ট হচ্ছে এবং গাছের ফল-ফলাদিও কমে যাচ্ছে। জলাশয়ের হচ্ছে মাছেরও ক্ষতি। এমনকি ভয়ঙ্কর এ কালো ধোঁয়ায় সর্দি কাঁশি এবং শ্বাসকষ্ট জনিত রোগেও আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের শিরগাতী এলাকার স্লুইসগেটের পাশে শিংগের চর এলাকার বাবু ওরফে টাক বাবু এবং আলামিন ৫টি অবৈধ কয়লার চুল্লী গত বছর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে জরিমানা এবং ভেঙ্গে ফেলা হলেও আবার বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে এ অবৈধ কয়লার চুল্লী’র ব্যবসা। একইভাবে ঘাটভোগ ইউনিয়নের আলাইপুর এলাকায় জামাল খা, গাউস খা ও শফিক ৬টি কয়লার চুল্লী’র ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে দেদারসে। রহিমনগর বৌ বাজার কলোনি এলাকায় কামরুল সরকারি চাকরীর পাশাপাশি ২টি কয়লার চুল্লী’র ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। রামনগর কসমস মাছ কোম্পানির পাশে ট্র্যান্সমিটারের নিচে আফজাল মুন্সি সহ আরো কয়েকজন চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ কয়লার চুল্লী’র ব্যবসা। রামনগর নতুন বাজার খেয়া ঘাটের পূর্ব পাড়ে পুরাতন মোমিন রাইস মিলের পাশে মোশাররফ হোসেন মুশা ২টি কয়লার চুল্লী’র ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বহাল তবিয়তে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে এ অবৈধ কয়লার চুল্লী’র ব্যবসা। এ কয়লার চুল্লী গুলো পরিবেশ ও উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে জরিমানা এবং ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিলেও কর্তৃপক্ষকে তোয়াক্কা না করে চালিয়ে যাচ্ছে এ ব্যবসা। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। রামনগর নতুন বাজার খেয়া ঘাটের পূর্ব পাড়ের উত্তর পাশে পুরাতন মোমিন রাইস মিল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মোসা: আনজিরা খাতুন বলেন, এই কয়লার চুল্লী,র কালো ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট, কাশি ও সর্দির খুব সমস্যা হয়। একই এলাকার জামিলা খাতুন বলেন, যেই ধোঁয়া শুরু হয়, ঠিক সেই মূহুর্তে আমার ছেলেটার কাশি হয়। ডাক্তার দেখাতে এবং ওষুধ কিনতে এক হাজার থেকে ১৫’শত টাকা লাগে। এমনকি এই ধোঁয়ায় গাছের পাতাও থাকেনা। একইভাবে ঘনবসতি এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম ও সালমা বেগম বলেন, কয়লা চুল্লীর কালো ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টের সমস্যা হয়, গলা জ্বলে। ঘরে অসুস্থ রোগীর কাশির দো। ধোঁয়া গেলে আরও সমস্যা হয়। রূপসার রামনগর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও বাংলাদেশ ক্রিকেট আম্পায়ার্স এ- স্কোরার্স অ্যাসোসিয়েশন খুলনার কার্যকরী সদস্য নাজমুল আহসান লিটন জানান, আমাদের এখানে ঘনবসতি এলাকা। আশপাশে আবার বস্তিও আছে। কিন্তু চুলায় কাঠ পুড়িয়ে কয়লা বানানোর ফলে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা প্রচুর বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকার মানুষের শ্বাস প্রশ্বাসের খুব সমস্যা হয়। ছোট ছেলেমেয়ে, অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষের শ্বাসকষ্ট, ফুসফুস সহ নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে। এ অবৈধ কয়লার চুল্লী গুলোতে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। অতি জরুরী কয়লার চুল্লীগুলো নির্মূল হওয়ার দরকার। কয়লা চুল্লীর অবৈধ ব্যবসার কথা স্বীকার করেছেন জামাল খাঁ। তিনি বলেন, আমি বাপ-দাদা’র আমল থেকেই এ ব্যবসা করছি। তবে, এটি অবৈধ জেনেও পেটের দায়ে করি। এ ছাড়া এ কয়লা দেশেই ব্যবহার হয়ে থাকে। খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. মারুফ বিল্লাহ বলেন, গতবছর আমরা অভিযান চালিয়ে কয়লার চুল্লী ভেঙ্গে দিয়েছিলাম। এখন পূনরায় চালু হলে আবারও অভিযান চালানো হবে।
এ ব্যাপারে রূপসা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অবৈধ কয়লার চুল্লী’র বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।