কৃষি জমি বিধ্বংসী নোনাপানি চিংড়ি চাষ বন্ধে মহামান্য হাইকোর্টে আদেশ থাকলেও মানছেনা প্রভাবশালী ঘের মালিকরা। এমনকি ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ব্যবহার বা নষ্ট করে নোনাপানির চিংড়ি চাষ করছে। এ নিয়ে খুলনার পাইকগাছায় জমি ও ঘের মালিকরা একের পর এক পাল্টাপাটি হামলা-মামলায় জড়িয়ে পড়ছেন। উপজেলার লতার ইউনিয়নের ২০নং পোল্ডারে চিংড়ী ঘেরে গেট দিয়ে লবণ পানি তুলতে বাঁধা দেয় জমির মালিকরা। অপরদিকে ঘের মালিক ৫ ফেব্রুয়ারী খুলনা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করছে ঘের মালিকরা। অভিযোগ করেন চিংড়ী চাষ অধ্যুষিত ২০নং পোল্ডারে আদালতের ৫৭/১০ নির্দেশনা অনুযায়ী চিংড়ী ও ধান চাষ করে আসছে। একই সাথে চলতি খুলনা বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী পানি তুলে চিংড়ী চাষ শুরু হয়েছে। অভিযোগটি থানা প্রাপ্ত হলে ওসি জিয়াউর রহমান তাদেরকে থানায় হাজির করে শনিবার সন্ধ্যায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। এ ছাড়া উপজেলায় ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে গদাইপুর ও কপিলমুনি দু’ইউনিয়নের সিমান্তে নোয়ালতলা ৭শ বিঘা ঘের নিয়ে। মিষ্ঠি ও লবণ পানি ঘের নিয়ে পরিস্থি দিন দিন ঘোলাটে হয়ে উঠছে। জমির মালিকরা গত ৩ ফেব্রুয়ারী নিজেরা গণঘের ও ধান চাষের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। বিষয়টি নিষ্পতির জন্য তিনি আইনশৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় পাউবো এসও এবং গদাইপুর ইউপি চেয়ারম্যানের উপর দায়িত্ব প্রদান করেন। একই দিনে ঘের মালিক শেখ আনারুল ইসলাম বাদী হয়ে ঘেরে উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে উপজেলা নির্বাহী আদালতে এমআর ১৯/২২ মামলা করেছেন। ৮ ফেব্রুয়ারী আদালত ওই চিংড়ি ঘেরে দখলভিত্তিক স্থিতিবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন। পক্ষে-বিপক্ষের নানা যুক্তিতে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ন্থানীয়রা। জমির মালিকদের লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, আমরা ঘের ব্যবসায়ী মরহুম ফসিয়ার রহমানের পুত্র ইসতিয়ার রহমান শুভকে বিশেষ শর্তে ডিড এগ্রিমেন্ট করেছিলাম। কিন্তু তিনি যথাক্রমে শেখ আনারুল ইসলাম ইসলাম, নির্মল মজুমদার ও বিপ্লব সাধুর নিকট ঘের হাস্থান্তর করায় ওই শর্ত ভঙ্গ হয়েছে। তাছাড়া উল্লেখিতরা (বর্তমান ঘের মালিকরা) জমির মালিকদের হারির টাকা ঠিকমত পরিশোধ করছেন না এবং দুর্ব্যবহার করছেন। ওই ঘের এরিয়ার মধ্যে ওয়াপদা বেড়িবাঁধ কেটে পানি ওঠানামা করানোর জন্য পৃথক ৬টি গেট, কলগই ও পাইপ বসিয়ে লবণ পানি তুলে ফসলের ক্ষতি করা হচ্ছে। তবে জমির মালিকদের এসব অভিযোগ আমলে না নিয়ে তাদের বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছে ঘের মালিকরা। এ প্রসঙ্গে ঘের মালিক শেখ আনারুল ইসলাম বলেন, ঘের মালিক ইসতিয়ার রহমান শুভ ডিড হস্তান্তর করেননি। আর্থিক সংকটের কারণে আমারা তার ঘেরের অংশীদার হয়েছি মাত্র। অন্য পার্টনার নির্মল মজুমদার বলেন, জমির হারি বাবদ একটি টাকা কারো বাদ নেই। এমনকি অনেকে অগ্রিম টাকা নিয়েছে। প্রসঙ্গত চিংড়ি অধ্যুষিত এ উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড পোল্ডার অভ্যন্তরে লবণ পানি উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় ঘের ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ঠরা। তবে শর্ত সাপেক্ষ চলতি মৌসুমে চিংড়ি চাষের সুযোগ রাখা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ঘের সংলগ্ন ওযাপদা ভিতর দশ ফুট দূরত্বে বিকল্প বাঁধ নির্মাণ করতে হবে ঘের মালিককে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দোহায় দিয়ে উপজেলার গদাইপুর-কপিলমুনি সিমান্ত নোয়তলা ও চক শুরনাল মৌজার প্রভাবশালী ঘের মালিক কর্তৃক স্কেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে প্রায় পৌনে এক কিলোমিটার দীর্ঘ ওয়াপদা বেড়িবাঁধের প্রায় অধাংশ কেটে বিকল্প বাঁধ নির্মাণ করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতি ছাড়া ওয়াপদা বেড়িবাঁধ কাঁটার বিষয়টি জানতে পেরে গদাইপুর ইউপি টেয়ারম্যান শেখ জিয়াদুল ইসলাম জোর প্রতিবাদ করেন এবং কাজ বন্ধ করে দেন। অবস্থার বেগতি দেখে ঘের মালিক ফের ওয়াপদা কাটা অংশ স্কেভেটরের মাধ্যমে নরম কাঁদা মাটি ফেলে বাঁধের অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করেন। পক্ষান্তরে কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়ার্দার বলেন ভিন্ন কথা। তিনি ঘের মালিককে প্রশাংসা করে বলেন, পকেট থেকে ২/৩ লাখ টাকা খরচ করে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেছেন ঘের মালিক। এমনকি বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও রাজু হাওলাদার ওয়াপদার যে মাটি কাটা ব্যাপারে কথা না বলে যে মাটি ফেলা হয়েছে তা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন ঘের মালিকের পক্ষে। দীর্ঘ দিন লবণ পানি বিরোধী আন্দোলনকারী অ্যাড. প্রশান্ত কুমার মন্ডল বলেন, লবণ পানিতে মৎস্য চাষ বন্ধ হলে প্রাণীজ আমিষসহ খাদ্য ঘাটতি পূরণ হবে। মানুষের বসবাসের পরিবেশ বজায় থাকবে। কৃষি জমিতে লবণ পানির চিংড়ী চাষ সংক্রান্ত মহামান্য হাইকোর্ট এর আদেশ কার্যকর করলে লবণ পানি বন্ধের জন্য কোনো আন্দোলন জনগণের করা লাগে না।