যশোরের ঝিকরগাছায় নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহারে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। বাজারে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনোরকম তদারকি না থাকায় পলিথিন ব্যাগ বিক্রি ও ব্যবহার আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। দ্রুতই পরিবেশ বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
২০০৪ সালে পরিবেশ রক্ষায় নিষিদ্ধ করা হয় যাবতীয় পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার। ওই সময় পরিবেশ অধিদপ্তর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সব ধরনের পলিথিন শপিং ব্যাগ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করা হয়।
বেশ কয়েক বছর এ নিয়ম কার্যকর থাকলেও বর্তমানে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগে আবারও ভরে গেছে সকল হাট-বাজার। পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ করে বিকল্প হিসেবে কম দামে বাজারে পাটের তৈরি ব্যাগ ছাড়ার ঘোষণাও করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে তার ব্যাবহার সামান্যই শুরু হয়েছে।
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিকল্প ব্যাগ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের কোনো অগ্রগতি চোখে পড়েনি। আর সে কারণে পলিথিন ব্যাগ বাজারজাতকরণ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও মানছে না কেউ। বাজারেও অহরহ বিক্রি হচ্ছে পলিথিন ব্যাগ।
ঝিকরগাছার প্রায় শতভাগ দোকানে প্রশাসনের নাকের ডগায় হরহামেশাই নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার চলছে তো চলছেই।
শুধু ঝিকরগাছা উপজেলা সদরে নয়, উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ বিক্রি ও ব্যবহার হচ্ছে আগের মতোই।
মুদি দোকান থেকে মালামাল ক্রয়কারী আবদুস সালাম পলিথিন ব্যাগে মালামাল পরিবহনকালে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন - সরকার পলিথিন উৎপাদনের লাইসেন্স দেচ্ছে, আবার তা বাজার বিক্রি হচ্ছে, এ বিক্রি বন্ধে আপনারা লেকছেন। এসব করে লাভ নেই। উৎপাদনের লাইসেন্স বাতিল করেন, ব্যাবহার বন্ধ করান। আমরাও ব্যবহার করবো না, পরিবেশও ভালো থাকবে।
পলিথিন ব্যাগ ব্যাবহারের ফলে পরিবেশের ক্ষতি হওয়া সম্পর্কে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাসুদ হাসান পলাশ বলেন - গবেষণায় দেখা গেছে, পলিথিন ৫শ' থেকে ১ হাজার বছর নষ্ট হয় না। এর ফলে মাটির উর্বরতা নষ্ট করে এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরুপ। পাটজাত দ্রব্যের ব্যাগের ব্যাবহার নিশ্চিত করতে জনগনকে এগিয়ে আসতে হবে।
মোবাইল কোর্টের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী নাজিব হাসান বলেন - দ্রুতই নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাবহারে বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয় জানতে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুবুল হক এর মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি।