বগুড়ার গাবতলীতে ওয়াকফকৃত জমির মোতওয়াল্লি নিয়ে পাল্টাপাল্টি আবেদন ও উভয় পক্ষের মধ্য উত্তেজনা বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে, যে কোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ হতে পারেবলে এলাকাবাসী আংশকা করছে। এ ঘটনায় পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ করা হলে পুলিশ ঘটনার স্থল পরিদর্শন করেছে। শান্তি ভঙ্গের আশংকায় পুলিশ ওয়াকফকৃত জমিতে মোতওয়াল্লি নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ওই জমিতে চাষাবাদ বন্ধ করে দিয়েছে।
বগুড়ার গাবতলী বাগবাড়ি পুুলিশ তদন্ত কেন্দ্র (ফাঁড়িতে) দায়েরকৃত অভিযোগে, নশিপুর ইউনিয়নের হোড়ারদীঘি গ্রামের পিতামৃত বাহার উদ্দীন মন্ডলের ছেলে অধ্যক্ষ ফজলুল বারী নয়ন বলেছেন, তার দাদা মরহুম জাহির উদ্দীন মন্ডল তার ১২৮ ও ১৪৬ শতাংশ জমি মসজিদ ও মাদ্রাসার নামে ১৯৩৪ সালে-১৫৬২৫ ও ১১২১৭ নং এষ্টেট, ই, সিতে ওয়াকফ করে যান। বেচেঁ থাকা কালিন জাহির উদ্দীন মন্ডল নিজেই ওয়াকফকৃত জমির মোতওয়াল্লির দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুর পর ৪ ছেলে, বড় থেকে ছোট পর্যন্ত মোতওয়াল্লি দায়িত্ব পালন করে মৃত্যু বরন করেন। পুলিশের কাছে অভিযোগকারী অধ্যক্ষ ফজলুল বারী নয়ন এখন বংশানুক্রমে বর্তমানে ওই জমির প্রকৃত মোতওয়াল্লি বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
তিনি ঢাকায় এষ্টেট, ই, সিতে মোতওয়াল্লি হওয়ার আবেদন দিয়েছেন, তা প্রক্রিয়াধিন আছে। পক্ষান্তরে তার চাচাত ভাই মোজাফফর রহমানও মোতওয়াল্লি হওয়ার আবেদন দিয়েছেন। এখনো মোতওয়াল্লি হওয়ার কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। ১৫ দিন ধরে ওই ওয়াকফকৃত জমি পরিত্যাক্ত থাতলেও হঠাৎ করে রাতের বেলায় মোজাফফর রহমান তার ছেলে সন্তানসহ অন্যশরিদের সাথে নিয়ে জমিতে পনিদিয়ে হালচাষ করে শুরু করে। সংবাদ পেয়ে অভিযোগের বাদী অধ্যক্ষ ফজলুল বারী নয়ন ঘটনার স্থলে গিয়ে ওই জমিতে পানি সেচ ও হালচাষ বন্ধ করেদেন। এ সময় মোজাফফর রহমান ও তার ছেলেসহ অন্যন্যারা নয়নের ওপর ক্ষিপ্ত হয় ও অকথ্য ভাষায় গালিগারাজ কর।
এপর্যায়ে কোদাল দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের বাধার মুখে অল্পের জন্য তিনি প্রানে রক্ষা পান। জীবন রক্ষার্থে অধ্যক্ষ ফজলুল বারী নয়ন সেখান থেকে দ্রুত ঘটনার স্থান ত্যাগ করে বাগবাড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে, মোজাফফর রহমান, শমিম, সাব্বীরুল হক রন্টু, রঞ্জু মিয়া, জাকির হোসন, আবদুল গফুরসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার স্থল পরিদর্শন করে শান্তি রক্ষায় ওই জমিতে মোতওয়াল্লি নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সকল প্রকার চাষাবাদ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন। এব্যপারে মোজাফফর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমিই এখন প্রকৃত মোতওয়াল্লি, ঢাকায় আবেদন করেছি আমার নামে চিঠি পাঠানো হবে।
অধ্যক্ষ ফজলুল বারী নয়নের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দাদার মুত্যৃরপর তার ৪ ছেলে বড় থেকে ছোট পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে মোতওয়াল্লির দায়িত্ব পালন করবে। তাদের মুত্যুরপর বড় ছেলের ছেলে অর্থাৎ আমি বর্তমানে ওই ওয়াকফ জমির প্রকৃত মোতওয়াল্লি হকদার। ওই জমির ফসলের ৪ ভাগের ৩ ভাগ মাদ্রাসা মসজিদে দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয়না। ওয়াকফকৃত মোতওয়াল্লি না হয়েও মোজাফফর রহমান, মোন্তেজার রহমান জমি ভোগ দখল ও লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে বন্ধক (খায়খালাশি) রাখে সে টাকা আত্মসাৎ করছে বলেও জানান।
এছাড়াও কথিত নিলামের ওয়াকফ জমি ও খায়খালির জমি অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে ফেরতের জন্য, তিনি বিষয়টি প্রক্রিয়াধিন রেখেছেন। অধ্যক্ষ ফজলুল বারী নয়ন ওয়াকফ এষ্টেট’র পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করেছেন। যোগাযোগ করাহলে বাগবাড়ি তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত আই সি’র সাথে, তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার স্থলে পুলিশ পাঠিয়ে হালচাষ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে ওয়াকফ এষ্টেট পরিচালক হুমায়ন কবিরের সাথে, তিনি বলেন শুক্রবার অফিস বন্ধ, জাহির উদ্দীন মন্ডল ওয়াকফকৃত জমির মোতওয়াল্লি বিষয়ে অফিস খোলা ছাড়া বলা সম্ভব নয়।