পাবনার সুজানগরের চরভবানীপুর, চরসুজানগর এবং চরমানিকদীরসহ ৫/৬টি গ্রামের কৃষকের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য পাকা রাস্তা নয়, প্রয়োজন শুধু একটি কাঁচা রাস্তা। আর একটি কাঁচা রাস্তা নির্মিত হলেই ওই সকল গ্রামের হাজার হাজার কৃষক তাদের চরাঞ্চলের জমির ফসল বিভিন্ন যানবাহনযোগে দ্রুত ঘরে তুলতে পারবেন। তাছাড়া চরাঞ্চলের আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকা বাসিন্দারাও ওই রাস্তা দিয়ে উপজেলার অফিস-আদালত এবং সুজানগর পৌর শহরে যাতায়াত করতে পারবেন।
সরেজমিন খোঁজ-খবরকালে দেখা যায়, ওই সকল গ্রামের কৃষকের হাজার হাজার বিঘা কৃষি জমি রয়েছে পদ্মার ওই চরাঞ্চলে। বর্ষার সময় এক দেড় মাস ওই জমি পদ্মার পানিতে নিমজ্জিত থাকলেও বর্ষার পানি সরে যাওয়া মাত্র চাষাবাদের উযোগী হয়ে উঠে। এ সময় এলাকার হাজার কৃষক তাদের ওই জমিতে সরিষা, মসুর, খেসারী, গম এবং মূলকাটা পেঁয়াজসহ বিভিন্ন রবি শস্য আবাদ করেন। কিন্তু রাস্তার অভাবে সীমাহীন দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে তাদের ওই ফসল ঘরে তুলতে হয়। চরভবানীপুর গ্রামের কৃষক বাদশা শেখ বলেন চরাঞ্চলে কৃষকের হাটা-চলাফেরা করার কোন রাস্তা নাই। অন্তত একটি কাঁচা রাস্তা থাকলেও আমরা ভ্যান এবং ভটভটি গাড়ীসহ বিভিন্ন যানবাহনযোগে চরাঞ্চলের জমির ফসল দ্রুত ঘরে তুলতে পারতাম। কিন্তু রাস্তা না থাকায় অত্যন্ত কষ্ট করে ঘোড়া এবং মহিষের গাড়ীতে করে ফসল ঘরে তুলতে হয়। একই এলাকার কৃষক গোলাম মোস্তফা বলেন শুষ্ক মৌসুমে ঘোড়া এবং মহিষের গাড়ীতে ফসল ঘরে তোলা গেলেও বৃষ্টির সময় তা আর সম্ভব হয়না। এ সময় চড়াদামে শ্রমিক নিয়ে মাথায় করে ফসল ঘরে তুলতে হয়। এতে তাদের লোকসান হয়। অথচ কৃষকের দুর্ভোগ লাঘবে চরাঞ্চলের জমির উপর দিয়ে কাঁচা রাস্তা নির্মাণ করা সম্ভব। আর একটি কাঁচা রাস্তা নির্মিত হলেই তারা বিভিন্ন যানবাহনযোগে অতি সহজে তাদের কৃষি পণ্য ঘরে তুলতে পারবেন। ফলে ওই সকল গ্রামের মানুষের দাবি চরাঞ্চলে একটি কাঁচা রাস্তা নির্মাণ করা। তাছাড়া রাস্তাটি নির্মিত হলে ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পের মানুষেরও দুর্ভোগ লাঘব হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রওশন আলী বলেন স্থানীয় এমপি মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করে চরাঞ্চলে একটি কাঁচা রাস্তা নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।