পাবনার বেড়া পৌর এলাকার একটি আবাসিক মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীকে বর্বর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসাটির সুপারের বিরুদ্ধে। সোমবার (৩১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বৃশালিখা মহল্লার রহিমা খাতুন মদিনাতুল উলুম নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় শিশুটির দাদি বাদি হয়ে বেড়া থানায় গতকাল (মঙ্গলবার, ০১ ফেব্রুয়ারি) মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযুক্ত সুপারকে ওই দিন রাতেই বেড়া বাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
নির্যাতনের শিকার শিশুটির নাম শিহাব হোসেন (১৩)। সে বেড়া পৌর এলাকার সা-িয়ালপাড়া মহল্লার সোহেল রানার ছেলে। বেড়া পৌর এলাকার বৃশালিখা মহল্লার রহিমা খাতুন মদিনাতুল উলুম নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার কিতাব বিভাগের আবাসিক ছাত্র সে।
থানায় দেওয়া অভিযোগপত্র ও শিশুটির বক্তব্য সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৩১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাদ্রাসার আবাসিক কক্ষে সে তার বন্ধুর মুঠোফোনে গজল শুনছিল। এ সময় মাদ্রাসার সুপার মো. রহমতুল্লাহ সেখানে গিয়ে মুফোফোনটি কেড়ে নিয়ে তাকে বেত দিয়ে নির্মমভাবে পেটাতে থাকেন। হাতে-পায়ে ধরে ও অনেক আর্তচিৎকারের পরেও সে পিটিুনি থেকে রক্ষা পায়নি। পিটুনির একপর্যায়ে শিশুটির দেহ ক্ষত-বিক্ষত হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য তাকে শাসানো হয়।
এদিকে আঘাতের যন্ত্রনায় শিশুটি সারা রাত ঘুমাতে না পেরে কান্নাকাটি করতে থাকলে সকালে তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বাড়ি এনে চিকিৎসা দেন।
শিশুটির সারা শরীরে বর্বর প্রহারের ক্ষত-বিক্ষত চিহ্ন দেখে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এলাকাবাসীও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁদের অনেকেই মাদ্রাসা কমিটির কর্মকর্তাদের কাছে সুপারের বিচার দাবি করেন। একপর্যায়ে শিশুটির দাদি বাদি হয়ে গত মঙ্গলবার (০১ ফেব্রুয়ারি) মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে বেড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
তদন্তের পর বেড়া থানা পুলিশ ঘটনাটিকে মামলা হিসেবে গ্রহণ করে মঙ্গলবার (০২ ফেব্রুয়ারি) রাতে মাদ্রাসাসুপার রহমতউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে।
বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার বলেন, ‘শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা গ্রহণ করে মাদ্রাসা সুপারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।’
মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি মুকুল হোসেন জানান, শিশুটিকে নির্মম নির্যাতন করায় এলাকার অনেকেই ক্ষুব্ধ। অতি শিগগির এ ব্যাপারে কমিটির সদস্যদের নিয়ে মিটিং করে সুপারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গ্রেপ্তারের আগে অভিযুক্ত সুপার রহমতউল্লাহ মুঠোফোনে জানান, মাদ্রাসায় মুঠোফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ। তাই ফোন ব্যবহারের অপরাধে শাসন করা হয়েছে। এর পরেই সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মুঠোফোনটি বন্ধ করে দেন।