বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে সদ্য শেষ হওয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ফুলবাড়ী ও হাটশেরপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় উপজেলায় আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণিত হয়েছেন। একজন ফুলবাড়ী ইউপিতে টানা ৪ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আনোয়ারুত তারিক মোহাম্মদ অন্য জন হাটশেরপুর ইউনিয়নে অনার্স পড়-য়া ছাত্র নূর মো: মেহেদী হাসান আলো। এ দুজনকে নিয়ে এখন আলোচনা সর্বত্রই মুখোরিতো। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ারুত তারিক মোহাম্মদ ২০০৩ সালে প্রথম ফুলবাড়ী ইউনিয়নে চেয়াম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর থেকে তিনি টানা ৩ বার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করলেও এবার নৌকা প্রতিক নিয়ে ৪র্থ বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ৭ হাজার ৫১১। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আকতারুজ্জামান বুলবুল স্বতন্ত্র (চশমা) পেয়েছেন ৩৫৪৯ ভোট। ৪র্থ বারের মতো মোহাম্মদ চেয়ারম্যান হওয়ায় উপজেলার সব মহলে আলোচনায় এসেছেন। বিশেষ করে উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে তার নাম বেশি আলোচিতো হচ্ছে। তার বাবা মরহুম আবদুল জলিল ফুলবাড়ী গমীর উদ্দিন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। এছাড়াও স্বাধীনতা পর ফুলবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিতো হয়েছিলেন মরহুম আবদুল জলিল। ইউনিয়ন পরিষদে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করায় বগুড়ার জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়াম্যান নির্বাচিতো হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন। তিনি সাদামাটা জীবন যাপন এবং সদালাপী একজন ব্যক্তি। সাধারণ মানুষকে অঘাত ভালোবাসার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি তার ভালোবাসা অপরিসীম। ইভিএম এ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিতো হওয়ায় তিনি এখন এলাকায় জননন্দিত ও চৌকষ স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আলোচিতো হচ্ছেন এখন। ছাগলধরা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুর রহিম বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তিনি কোনো মানুষের কাছ থেকে টাকা-পয়সা বিনিময়ে কাউকে কোন কাজ করে দেননি। সকল লোভ-লালোসার ঊর্ধ্বে একজন মানুষ তিনি। আশা করছি আজীবন জনগণের ভালোবাসা নিয়ে ফুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
অপরদিকে হাটশেরপুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান নির্বাচিতো হয়েছেন নূর মো: মেহেদী হাসান আলো (আনারস প্রতিক)। সদ্য শেষ হওয়া এই নির্বাচনে ইউনিয়নে প্রার্থী হয়েছিলেন ৬ জন। তার মধ্যে নূর মো: মেহেদী হাসান আলো সর্ব কণিষ্ঠ একজন ব্যক্তি। সরকারী আজিজুল হক কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র তিনি। ২৮ বছর বয়সী আলো নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় বেশ আলোচিতো হচ্ছেন তিনি। হাসনাপাড়া গ্রামের মামুনুর রশীদ মামুন ও মিজানুর রহমান শামীম জানান, এবারের ইউপি নির্বাচনে ভালো একজন প্রার্থী নির্বাচিতো হয়েছেন। আশাকরি তিনি সাধারণ মানুষের আশা-আখাংঙ্খার প্রতিফলন ঘটাবেন। নূর মো: মেহেদী হাসান আলো বলেন, কখনো ভাবিনি আমি চেয়ারম্যান হয়ে মানুষের সেবা করতে পারবো। আশা করছি বয়জ্যোষ্ঠ্য ও সুশীল সমাজের পরামর্শক্রমে ইউনিয়ন পরিষদের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবো।