বগুড়ার শেরপুরে দত্তকপুত্রকে সম্পত্তির অংশ না দিয়েই বাড়িঘর থেকে বিতারিত করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এহেন ঘটনা শেরপুর পৌর শহরের পশ্চিম দত্তপাড়ায় ঘটেছে। এরপ্রেক্ষিতে দত্তকপুত্র সুমন দত্ত(ডানো) বাদি হয়ে বগুড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শেরপুর আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলার পর থেকে প্রানভয়ে পালিয়ে বেড়ানো সহ জীবনের নিরাপত্তা ও বিচার প্রার্থনায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ভুক্তভোগী পরিবার।
মামলাসুত্রে ও সংবাদ সম্মেলনে ভূক্তভোগী পরিবার জানায়, বগুড়ার শেরপুর পৌর শহরের পশ্চিমদত্তপাড়া এলাকায় মৃত কালাচান দত্ত ও তার স্ত্রী নিঃসন্তান হওয়ায় সুমন চন্দ্র দত্তকে প্রচলিত আইন মোতাবেক দত্তকপুত্র নিয়ে পিতা-মাতার পরিচয়ে লালন পালন করে আসছিল। সে থেকেই সুমন চন্দ্র(ডানো) তার পিতা-মাতার পরিচয়েই সমাজে আর দশজন ছেলে-মেয়ের মত বেড়ে উঠেছিল এমনকি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে সুমন দত্ত তার পিতার বাড়ীর সম্পত্তি ১০৯ জেএলনং, শেরপুর পৌর মৌজার এমআরআর ১৬৩, হালে ১২২ নং খতিয়ানভূক্ত সাবেক ২১১ হালে ৩৪০ দাগে .০২৪২ সম্পত্তিতে পুরাতন ঘর ভেঙ্গে প্রায় সাড়ে ৩লক্ষ টাকা ব্যয়ে ঘর তৈরী করছিল। কিন্তু বিধি বাম ঘর-বাড়ি তৈরীর কাজ শেষ হতেই পিতা কালাচান দত্ত মারা যায়। পিতার মৃত্যুর পরপরই তারই ভাগিনা সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া বাকোয়া কাপড়পট্টি এলাকার মৃত নিত্যানন্দের ছেলে গৌতম দত্ত একটি ভূয়া দানপত্র দলিল সৃষ্টি করে এবং ওই সম্পত্তি শেরপুরের মৃত অরুন দত্তের ছেলে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী উত্তম দত্ত (আকাশ) এর নিকট বিক্রয় করে। এর ফলে উত্তম দত্ত আকাশ ভুক্তভোগী সুমন দত্তকে তার পিতার সম্পত্তির অংশ বুঝে না দিয়েই উল্টো তাকে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক নিজ ক্রয়কৃত আসবাবপত্র না দিয়েই ওই বাড়ী থেকে বিতাড়িত করে দেয়।
এ ব্যাপারের ভুক্তভোগী সুমন দত্ত ও তার স্ত্রী তপতী বলেন, উত্তম দত্ত আকাশ ও তার বাহিনীরা দাপুটে ও মাস্তান প্রকৃতির। তাদের অন্যায়-অত্যাচারের প্রতিকার পেতে প্রথমে বগুড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করি। এরপ্রেক্ষিতে আকাশ দত্ত ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে চরথাপ্পড়, কিলঘুষিসহ ভয়ভীতি দেখায়। পরবর্তীতে আকাশ দত্ত মুচলেকা দিয়ে ওই মামলা থেকে অব্যাহতি নেয়। এরপরেও আবারো উত্তম দত্ত আকাশ ও তার বাহিনীরা আমাকে পুনরায় শেরপুর থেকে বিতাড়িত করতে উঠে পড়ে লেগেছে। এর প্রেক্ষিতে তারা আমার ভাড়া বাড়িতে এসে এমনকি রাস্তাপথে ধরে শেরপুর ছাড়ার হুমকী দিয়ে আসছে, তাছাড়া আমি ‘‘যদি ওই সম্পত্তির অংশ বা অংশীদারিত্ব নিয়ে” কথা বলি তাহলে ওই বাহিনী সদস্যরা আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের মারপিট, অপহরণ, হত্যাসহ নানা হুমকী-ধামকী দিয়ে আসছে। তাদের হুমকী-ধামকীতে আমিসহ আমার পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা এবং আমার মৃত পিতার সম্পত্তির অংশের অংশীদারিত্ব চেয়ে বগুড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শেরপুর আমলী আদালতে মামলা দায়ের করি। এ ঘটনায় ওই প্রভাবশালী উত্তম দত্ত আকাশ বাহিনীর হাত থেকে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগী পরিবার।
এ বিষয়ে নানা হুমকী-ধামকির কথা অস্বীকার করে উত্তম দত্ত আকাশ বলেন, আমি দলিলমুলে জায়গাটি ক্রয় করেছি। তারপরেও ওই সুমন দত্ত ৩ লাখ টাকা নিয়ে নিজেই বাড়ী ছেড়ে চলে গিয়েছে। অথচ সে উল্টো আমাদেরকে জড়িয়ে বিভিন্ন জায়গায় মামলা ও অভিযোগের মাধ্যমে হয়রানি করে আসছে।
এ প্রসঙ্গে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম বলেন, আকাশ দত্ত ওই জমিটি কিনে নিয়েছে এবং সুমন দত্তের অভিযোগের ভিত্তিতে উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে ৩লাখ টাকার বিনিময়ে ঘটনার মিমাংসা হয়। তাছাাড়া সুমন দত্ত আদালতে মামলা দিয়েছে জেনেছি, তবে তাকে হুমকী-ধামকি দেয়া হচ্ছে কিনা আমার কাছে অভিযোগ দায়ের করেনি।