বগুড়ার সারিয়াকান্দির হাটশেরপুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদের জন্য অনার্স পড়-য়া এক ছাত্র নির্বাচন করছেন। তাঁর নাম নূর মো: মেহেদী হাসান আলো। সতন্ত্র প্রার্থী হয়ে তিনি নির্বাচন করছেন। সে হাটশেরপুর ইউনিয়নের তাজুরপাড়া গ্রামের মো: তৌহিদুল আলম নয়নের ছেলে এবং বগুড়া সরকারি আজিজুল কলেজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। আগামী ৩১ জানুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে (ইউপি) ইউনিয়নবাসীর কাছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। ছাত্র জীবনে এমন সিদ্ধান্ত বেছে নেওয়ায় আলোচনার মূল কারণ তিনি। স্থানীয়রা জানান, সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নটি যমুনা ও বাঙালী নদী বিধ্বস্ত একটি এলাকা। এই ইউনিয়নে ১৬টি গ্রাম রয়েছে। গ্রামের ৮টি যমুনা ও ৩টি বাঙালী নদী চরে অবস্থিত। মোট লোক সংখ্যা ১৬ হাজারের বেশি হলেও নারী-পুরুষ মিলে ভোটার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১২ হাজারের মতো। ইউনিয়নের মানুষ সহজ-সরল, ধার্মীক ও নরম প্রকৃতির। ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী তাজুরপাড়া গ্রামের নূর মো: মেহেদী হাসান আলো এবার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন। নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র তোলার পর থেকেই তাকে নিয়ে আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে। মঙ্গলবার বিকেলে গণসংযোগ করছিলেন ইউনিয়নের উত্তর বলাইল গ্রামে। এ গ্রামে গণসংযোগ করার সময় অনেকেই তাকে এক নজর দেখার জন্য ছুটে আসেন। বিশেষ করে নারী ও তরুন ভোটারদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ তাকে দেখতে ভিড় জমায়। এ সময় নূর মো: মেহেদী হাসান আলো বলেন, আমি এসেছি ইউনিয়নের সেবার আমূল পরিবর্তন করতে। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বয়স্ক, শিশু থেকে শুরু করে, সব মানুষের মনিকোঠায় ওঠা যায়। কিন্তু পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বাররা তা না করে মানুষের কাছে তিরস্কৃত হন। ছোট থেকেই আমার কাছে বিষয়গুলো খুবই খারাপ লাগছে। যার কারণে আমি এ সমাজের পরিবর্তন আনতে চাই। আমি ইউনিয়নবাসীর সেবা করে হাটশেরপুর ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়ন হিসেবে দেশবাসীর সামনে আনতে চাই। তিনি আরো বলেন, আমি কোন দলের হয়ে আসিনি, কারণ দল থেকে মনোনিত হয়ে চেয়ারম্যান হলে দলের চাপে প্রকৃতপক্ষে সাধারণ মানুষের সেবা করা যায়না। সে জন্য আমাকে আনারস মার্কায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। ইউনিয়নের হাসনাপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমান শামীম বলেন, আমিও ওই পদে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়নপত্র তুলেছিলাম। কিন্তু পরে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছি। কারণ তার দাদা বীর মুক্তিযোদ্ধা এ.এস.এম ইবনে আজিজ (মন্টু) এর নাতী ও বাবা রংপুর বিভাগের কর্মরত একটি বড় গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা। এছাড়াও তার চাচা হামিদুল আলম মিলন মাদারীপুর জেলার হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার (এস.পি)। হাটশেরপুর ইউনিয়ন এলাকায় দ্বীনি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে স্কুল-মাদ্রাসা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি তাদের ভালোবাসা অকৃতিম। স্থানীয় এ নির্বাচনে আলো একটা ফ্যাক্টর। যার কারণে এলাকার স্বার্থের কথা চিন্তা করে আমি সড়ে এসেছি।