বগুড়ায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গাবতলী উপজেলার বালিয়াদিঘী ইউনিয়নের সোনামুয়া, মহিষাবান ইউনিয়ন, গাবতলী সদর, সোনারায়, সুখানপুকুর ও নারুয়ামালাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। জমির ওপরের অংশ অর্থাৎ টপ সয়েল ইটভাটায় যাওয়ায় জমির উর্বরতা হারাচ্ছে। এতে করে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত ইটভাটা ও এইসব অসাধু মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে আগামীতে খাদ্য ঘাটতি সহ ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
গাবতলী উপজেলায় প্রায় ১৮ থেকে ২০ টি ইটভাটা রয়েছে। যাদের অধিকাংশেরই পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন ছাড়পত্র নাই। ইট তৈরীর প্রধান কাঁচামাল মাটি। ফসলি জমির মাটি তৈরিতেও সুবিধা বেশি। এ ছাড়া হাতের নাগালে থাকায় কৃষকদের বিভিন্ন ভাবে বিনা টাকায় মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। মাটি বিক্রি করে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটিতে যে জিপসাম বা দস্তা থাকে তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া মাটিতে যে জীবাণু থাকে এবং অনুজীবের কার্যাবলী আছে তা সীমিত হয়ে যাচ্ছে। এতে করে দিন দিন ফসলি জমিতে উৎপাদন ক্ষমতা কমছে।
সরেজমিনে গিয়ে গাবতলীর বালিয়াদিঘী ইউনিয়নের সোনামুয়া গ্ৰামের কৃষক খলিল মোল্লা ও শেড়া সরকারের সাথে কথা বললে তারা বলেন, আমাদের গ্রামের প্রভাবশালী সাবেক চেয়ারম্যান তিনি তার নিজের ৪০ শতাংশ জমি পুকুর খননের উদ্দেশ্যে ওই জমির মাটি স্থানীয় ইটভাটা তে দিচ্ছেন এতে করে ওনার জমির আশপাশে আমাদের ঘরবাড়ি ধ্বংসের মুখে পড়ছে এবং আবাদি জমি গুলো নষ্ট হচ্ছে। তিনি ও ভাঁটা মালিক প্রভাবশালী হওয়াতে আমরা তাদের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারছি না। আমরা প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়। আমার সাধারণ গ্রামবাসী এখান থেকে পরিত্রাণ পেতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতা কামনা করছি।
মাটি কর্তনের বিষয় নিয়ে প্রভাবশালী চেয়ারম্যান ফেয়ার নিউজ সার্ভিসকে বলেন, আমার জমির মাটি স্থানীয় ইটভাটা মালিকের সাথে একটা চুক্তি সই হয় এইরকম যেকোন ঝুট-ঝামেলা পুলিশ প্রশাসন সব ভাঁটা মালিক দেখবে।
গাবতলী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের জানান, এভাবে ফসলি জমির মাটি ইটভাটায় যেতে থাকলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে। ফসলি জমির উপরের অংশে টপ সয়েল থাকে। সেগুলো ইটভাটায় চলে গেলে কমপক্ষে দুই থেকে তিন বছর ওই জমি থেকে ভালো ফলন আশা করা যাবে না। এতে করে আগামীতে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কায় পড়তে হবে বলে তিনি মনে করেন।
মাটি কর্তনের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওনক জাহান ফেয়ার নিউজ সার্ভিসকে বলেন, প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অপরাধীরা পালিয়ে যায়, যে কারণে ভ্রাম্যমান আদালত করা সম্ভব হয় না। আমি অতীতেও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছি, এখনও চালু আছে এবং ভবিষ্যতেও চালু থাকবে। এই অনিয়ম রোধ করার জন্য আমি উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।