যশোরের অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদের নব নির্বাচিত ইউপি সদস্য উত্তমকে গুলি করে হত্যা কান্ডের ঘটনায় অর্ধেন্দু মল্লিককে আটক করেছে থানা পুলিশ। সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদের নব নির্বাচিত সদস্য নিহত উত্তম সরকারের কাছে পারাজিত হয় আটক সাবেক ইউপি সদস্য অর্ধেন্দু মল্লিক। নিহত উত্তমের স্ত্রী বাদী হয়ে অঙ্ঘাত নামা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৭/১১-১-২০২২।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুন্দলী ইউনিয়নের সুড়িরডাঙ্গি মহাশ্মশানে তার অন্তেষ্ট্যেক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এর আগে বিকাল সাড়ে পাঁচটায় ময়নাতদন্ত শেষে নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য উত্তম সরকারের মরদেহ হরিশপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌছালে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। প্রথমে তার লাশ হরিশপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে রাখা হয়। সেখানে আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজারও মানুষ উত্তম সরকারের মরদেহ একনজর দেখতে হাজির হয়। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আত্মীয় পরিজন। কান্না আটকাতে পারেন নি প্রতিবেশিরাও। এদিকে দিনভর উত্তম সরকারের পরিবারের পাশে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ¦ এনামুল হক বাবুল, সাধারণ সম্পাদক সরদার অলিয়ার রহমানসহ আওয়ামী লীগ নেতারা ছুটে আসেন। পরিবারকে সান্তনা দেন। বিকেলে লাশ আসার কিছু সময় আগে ঘটনাস্থলে আসেন যশোর-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য রনজিত কুমার রায়। তিনি উত্তম সরকারের মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে অনতিবিলম্বে হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রশাসনের প্রতি নির্দেশনা দেন। এবং অসহায় পরিবারটির পাশে দাড়ানোর আশ্বাস দেন। এ সময় যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দিপঙ্কর দাস রতনও একই দাবি তোলেন। সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিকাশ কপিল রায়, প্রেমবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন, সুন্দলী ইউনিয়নের সকল বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসী হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানান। পরে উত্তমের মরদেহ নিজের বাড়ির উঠানে রাখা হয়। সেখানে লাশের উপর আছড়ে পড়েন উত্তমের মা, স্ত্রী, ছোট্ট দুই শিশু সন্তানসহ স্বজনেরা। উত্তম সরকারের মা শেফালী সরকারের হৃদয় বিদারক বিলাপে গোটা এলাকা শোকে স্তবদ্ধ হয়ে যায়। রাতেই ওই ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া ইউপি নির্বাচনে উত্তম সরকারের প্রতিদ্বন্দ্বীতায় পরাজিত প্রার্থী অর্ধেন্দু মল্লিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে নিহত উত্তমের স্ত্রী শ্রাবন্তী সরকার বাদী হয়ে অঙ্ঘাত নামা মামলা করেন। মামলায় থানা পুলিশের হেফাজাতে থাকা পরাজিত প্রার্থী অর্ধেন্দু মল্লিককে আটক দেখানো হয়। এবং বুধবার সকালে আটক অর্ধেন্দু মল্লিককে যশোর আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, ২নং সুন্দলী ইউপি নির্বাচনে ১নং ওয়ার্ডে অর্ধেন্দু মল্লিক এর সাথে মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করে জয় লাভ করে। নির্বাচন চলাকালিন সময়ে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থি অর্ধেন্দু মল্লিক আমার স্বামিকে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য নানা ধরনের পরিকল্পনা করে এবং বিভিন্ন ধরনের বিরুপ মন্তব্য করে। ঘটনার দিন (১০-১-২০২২) সোমবার বিকাল আনুমানিক ০৫ঘটিকার সময় শ্রাদ্ধ উপলক্ষে স্বপরিবারে আন্দা গ্রামে মামা শ^শুর বাড়ীতে যাই। সেখান থেকে খাওয়া শেষে স্বামি সহ সকলকে নিয়ে বাড়িতে আসি। আমার স্বামি আমাদের বাড়ীর সামনে রেখে পুনরায় মটর সাইকেল যোগে ইউপি যায়। উল্লেখ্য ১০-১-২০২২রাতে আনুমানিক ৮টা ২০ঘটিকার সময় সুন্দলী বাজার থেকে হরিশপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে হরিশপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিকট পৌছলে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তার গতিরোধ করে বুকে গুলি করে। গুলিটি তার বুক ভেদ করে বেরিয়ে গেলে উত্তম সরকার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ওসি একেএম শামিম হাসান বলেন, এ হত্যা কান্ড ঘটনায় নিহতর স্ত্রী শ্রাবন্তি সরকার বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলা নং ৭। আশাকরি অচিরেই হত্যার ক্লু উদঘাটন করে হত্যার সাথে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবো।