বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাতায়াতকারী ল্যাগেজ পার্টির চোরাচালানী মালামাল আটক করায় বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার মো: আবদুল কাইয়ুমকে হুমকী দেয়া হচ্ছে প্রাণ নাশের। চোরাচালানীরা তাকে প্রায়শ:ই প্রাণনাশের হুমকী দিচ্ছেন।
জীবনের নিরাপওা চেয়ে বেনাপোল পোর্র্ট থানায় একটি জিডি করেছেন ডিসি আবদুল কাইয়ুম। জিডি নাম্বার ১১৪৫। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল পোর্র্ট থানার ওসি মামুন খান।
ফলে ল্যাগেজ পার্টি নামধারী চোরাচালানী সদস্যরা প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার চোরাচালানী পন্য পাচার করছে দীর্ঘদিন এই পথে। কাস্টমস হাউসের যুগ্ন কমিশনার আব্দুশ রশিদ মিয়া বেনাপোল যোগদানের পর পরই ভারতে থকে আসা কয়েক কোটি টাকার চোরচালাণী মালামাল আটক করে। আদায় করা হয় ২০ লাখ টাকার রাজস্ব। যারা প্রকৃত পাসপোর্ট যাত্রী তারা ব্যাগজ স্ক্যানিং করে সরাসরি গ্রীন চ্যানেল দিয়ে চলে যাচ্ছে। শুধুমাত্র অবৈধভাবে কাস্টমস’র চোখ ফাঁকি দিয়ে নিয়ে আসা চোরাচালানী ব্যবসায়ীদে মালামাল আটক করে রাজস্ব আদায় করায় ক্ষুব্দ হয়ে উঠেছে ল্যাগেজ পার্টির সদস্যরা।
আজ সকালে বিজনেস ভিসায় বাংলাদেশে আসা ভারতীয় ল্যাগেজ পার্টি যাত্রী রিয়াজ ম-ল প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল পাচার করে এনে বেনাপোল চেকপোস্টে দোকানে বিক্রি করে ফিরে যাচ্ছে দেশে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ঐদিন তার ৩০ লাখ টাকার মালামাল আটক করে রাজস্ব পরিশোধ করে ছেড়ে দেয়।
সম্প্রতিককালে ভারতীয় একটি চোরাচালানী চক্র পাসপোর্ট যোগে প্রতিদিন বিজিনেস ভিসা নিয়ে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে। তাদের সাথে আনা লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল চেকপোস্টেই বিক্রি করে ফিরে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন কাস্টমস ডেপুটি কমিশনার আবদুল কাইয়ুম।
বাংলাদেশী পাসপোর্ট যাত্রী মাহবুবুল আলম জানান, পাসপোর্ট যোগে চোরাচালান ব্যবসা বেড়েছে এই্ পথে। পাসপোর্টে ল্যাগেজ পার্টির সদস্যরা প্রতিদিন এক একজন লক্ষ লক্ষ টাকার চোরাচালানী পন্য নিয়ে আসছে দেশের অভ্যন্তরে। তাদের পন্য আটক করলেই তারা সংঘবদ্ধ হয়ে আক্রমণ করছে কাস্টমস কর্মকর্তাদের ওপর। তাদের জণ্য আমাদের মত সাধারন যাত্রীদের যাতাযাতে দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।
বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান জানান, কাস্টমস এর ডেপুটি কমিশনার মো: কাইয়ুম জীবনের নিরাপওা চেয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি জিডি করেছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে, তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মো. আজিজুর রহমান জানান, সত্যিকারের যাত্রীদের কোন ধরনের হয়রানি করা হয়না। অবৈধভাবে কাস্টমসকে ফাঁকি দিয়ে চোরাই মালামাল নিয়ে আসা ব্যবসায়ীদের পন্য আটক করলেই তারা হয়রানির অভিযোগ করে থাকে। কঠোর নজরদারির কারণে চোরাচালানী ব্যবসায়ীরা এখন শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মালামাল আনতে পারছেন না।