বগুড়ার গাবতলীতে পঞ্চম ধাপের নির্বাচন ককটেল বিস্ফোরন, পুলিশের গুলি, দুই জন নিহত, ম্যাজিষ্ট্রেট, বিজিবি’র গাড়ি ভায়চুর, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫ জানুয়ারী বুধবার গাবতলী উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের মধ্য ৯ টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন চলাকালে দুপুর ২ টায় রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্য বাক-বিতন্ড ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রার্থী সাহিদুল ইসলাম (টিউবয়েল) মার্কার সমর্থক রং মিস্ত্রি মোঃ জাকিরুল ইসলাম (২৮) ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়, তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (শজিমেক) নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃতবলে ঘোষনা করে। স্থানীয়রা জানায়, নিহত জাকিরুল ইসলাম মেম্বার প্রার্থী সাহিদুল ইসলামের সমর্থক। সে তার ফেসবুক আইডিতে টিউবয়েল মার্কার বিভিন্ন প্রচার প্রচারনা চালায়। এতে প্রতিপক্ষ ফুটবল মার্কার প্রার্থী মোঃ ফেরদৌস হোসেন মিঠুসহ তার কর্মী সমর্থক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। নিহত জাকিরুল ও দুই মেম্বার প্রার্থী সকলে আ.লীগের সমর্থক। এ ঘটনায় ভোট চলাকালে দুপুর ২ টায় জাইগুলি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের উত্তর পার্শ্বে উভয় মেম্বার প্রার্থীর মধ্য ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় এই ঘটনা ঘটে। দপুর সাড়ে ১২ টায় রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের পাঁচকাতুলী ভোট কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটলে ১ ঘন্টা ভোট গ্রহন বন্ধ থাকে। পরে আবারো এই কেন্দ্রে ভোট গ্রহন শুরু হয়। গাবতলীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ৩ টি ঘটনা ছাড়া, শান্তিপুর্ন আবাধ ও সুষ্ঠভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এব্যপারে গাবতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ রওনক জাহান’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পাঁচকাতুলী কেন্দ্রে ১ ঘন্টা ভোট বন্ধ থাকার পর আবারো চালু হয়। জাইগুলি কেন্দ্রের বাহিরে ২ মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্য ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় একজন মেম্বর প্রার্থীর সমর্থক নিহত হয়েছে। অপরদিকে বিকেল ৫ টায় বালিয়াদীঘি ইউনিয়নের কালাইহাটা ভোট কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষনা না করায়, স্থানীয় জনতা প্রশাসনের উপর চড়াও হয়। এ সময় দায়িত্বরত ম্যাজিষ্ট্রে, বিজিবি’র গাড়ীসহ কয়েকটি গাড়ী ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ গুলি চালালে আবদুর রশিদ নামে এক বিএনপি সমর্থক নিহত হয়েছে বলে জানাগেছে। সেখানে পরিস্থিতি তমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্থানীয় ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে না পাওয়ায়, আর কোন তথ্য জানা সম্ভব হয়নি। উপজেলা নির্বাচন অফিস সুত্রে জানাগেছে ৯ টি ইউনিয়নে ১ লাখ, ৮৫ হাজার, ৬২১ জন ভোটার। চেয়ারম্যান প্রার্থী ৬৩ জন, সাধারন মেম্বার প্রার্থী ৩৫৩ জন ও সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার প্রার্থী ১২২ জন প্রতিদ্বন্দিতা করেন।