পাবনার চাটমোহর উপজেলার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত একদার স্রোত¯্রনিী বড়াল নদ শুকিয়ে গেছে। দখল,দূষণের পাশাপাশি ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। শুকনো মৌসুম না আসতেই নদীটির বুকে এখন আবাদ হচ্ছে ইরি-বোরো,সরিষাসহ নানা ফসলের। পানিশুন্য বড়াল এখন মরা নদে পরিণত হয়েছে। প্রভাব পড়েছে কৃষি কাজে আর ব্যবসা বানিজ্যে। নদটি খনন না করার কারনেই এমন হাল হয়েছে বলে অভিমত বড়াল ও চলনবিল রক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব এস এম মিজানুর রহমানের।
শনিবার বড়াল নদের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করে দেখা গেল,নদের মাঝে চলছে ধান,সরিষা,শাক সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ। নদ দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে নানা স্থাপনা। নদী পাশর্^বর্তী হাট-বাজার আর বাসা-বাড়ির ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে বড়ালে।
চলনবিলের বুকচিরে অনেক নদ- নদী,জোলা,খাল, খাড়ি প্রবাহিত হচ্ছে। এইসব নদ-নদী জোলা খাল দিয়ে উজান থেকে বিপুল জলরাশি প্রবাহিত হয়ে চলনবিলের প্রান সঞ্চালন করে আসছে। এসকল নদ-নদীর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বড়াল নদ। চলনবিলের প্রাণদায়িনী এই গুরুত্বপুর্ন নদের উপর অপরিকল্পিতভাবে স্লুইসগেট রাবার ড্যা¤্প, ব্রিজ,কালভার্ট, বাঁধ,পাকা সড়ক আবাসনসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ এবং প্রভাবশালী ভুমি খেকোদের অবৈধ দখলদারদের অপরিনামদর্শী নির্যাতনে নব্যতা হারিয়ে মরা নদে পরিনত হয়েছে প্রমত্তা বড়াল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অদুরদর্শীতায় মৃত্যুর প্রহর গুনছে চলনবিলের জীবনদাত্রী বড়ালসহ অন্যান্য নদ-নদী। বর্ষা মওসুমে ২০ ভাগেরও কম পানি প্রবাহিত হয় মাত্র ৩ থেকে ৪ মাস। যার ফলে এখন আষাঢ় মাসেও চলনবিলে পানি থাকেনা।
রাজশাহীর চারঘাটে বড়ালের মুখে স্লুইসগেট নির্মান করে বড়ালকে নির্মমভাবে হত্যা করা হযেছে। নদীর প্রস্বস্ততা ৮০ ভাগ সঙ্কুচিত করে স্লুইসগেট নির্মান করা হয়েছে। ফলে বর্ষাকালেও পদ্মার পানি বড়ালে ঢোকেনা। পদ্মা ও যমুনার সংযোগ স্থাপনকারী বড়ালে পানির প্রবাহ না থাকায় প্রবাহমান চলনবিল এখন মরা বিলে পরিনত হচ্ছে। বড়াল ও চলনবিলের অতীত ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে বড়াল ও চলনবিল রক্ষা আন্দোলন কমিটি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। তাদের দাবি বড়ালকে সচল করতে হবে। ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের আওতায় এনে মরা বড়ালকে খনন করতে হবে।
চাটমোহর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সৈকত ইসলাম বললেন,নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশ। নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই বড়ালকেই বাঁচাতে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এ মাসুমবিল্লাহ বললেন,বড়ালে পানি না থাকায় কৃষিতে বিরুপ প্রভাব পড়েছে। পানি না থাকার কারণে কৃষক নদীপাড়েই গভীর নলকূপ স্থাপন করে ফসলের জমিতে পানি সেচ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব এস এম মিজানুর রহমান বলেন,বড়াল ও চলনবিলকে রক্ষা করতে হবে। এজন্য সরকারকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজশাহীর চারঘাটের বড়ালের মুখে এবং আটঘড়িয়ার বড়াল এবং নন্দকুঁজা নদীর উপর নির্মিত অপ্রস্বস্ত স্লুইসগেট তিনটি অপসারন করতে হবে। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে। নদীর সীমানা নির্ধরন করে সীমানা খুঁটি স্তাপন করতে হবে। বড়ালসহ চলনবিলের বুকচিরে প্রবাহিত সকল নদ-নদী খাল-জোলা পূনঃখনন করে নব্যতা ফিরে এনে বাধাহীন পানির স্বভাবিক প্রবাহে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা করতে হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুস সাত্তার বলেন,বড়াল নদ অনেক আগেই নাব্যতা হারিয়েছে। নদীপাড়ের মাঠে অপরিকল্পিত গভীর নলকুপ বসিয়ে আবাদ করা হচ্ছে। এতে ভূ-গর্ভস্থ পানিতে টান পড়ে, দ্রুত ভূ-উপরিস্থ পানি শুকিয়ে গেছে। দখণ-দূষণ বেড়েছে।