একটি মামলায় স্বাক্ষীদের স্বাক্ষর জাল করে ফাইনাল রিপোর্ট আসামীদের পক্ষে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই লিটন মিয়ার বিরুদ্ধে। এসআই লিটন মিয়া যশোরের মণিরামপুরের রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে দায়িত্বরত আছেন। মামলার বাদি মোঃ কামাল খানের অভিযোগ মোটা অংকের অর্থে তুষ্ট হয়ে আদালতে মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করেছেন এসআই লিটন মিয়া। অপরদিকে একটি মহলকে খুশি করতে গত শুক্রবার বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে একটি মহলের ইন্দনে অনেকের নাম জড়িয়েছেন ওই এসআই লিটন মিয়া।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, জমি-জমা বিরোধের জের ধরে গত ৯ সেপ্টেম্বর উপজেলার মোবরকপুর গ্রামের মৃত আব্দর রশিদ খানের ছেলে মোঃ কামাল খান বাদি হয়ে আব্দুল্লাহ সাদি খানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। যার মামলার সি.আর- ৫৫১/২১। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মনিরামপুর থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেন। যার তদন্তভার পড়ে রাজগঞ্জ পুলিশি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই লিটনের উপর। অভিযোগ হচ্ছে এসআই লিটন কোন ধরনের তদন্ত না করেই আসামী পক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থে তুষ্ট হয়ে মামলার স্বাক্ষীগণের স্বাক্ষর জাল করে আদালতে মনগড়া প্রতিদেন দাখিল করেন।
মামলার বাদি মোঃ কামাল খান বলেন, গত ২১ ডিসেম্বর আদালতে গিয়ে জানতে পারেন স্বাক্ষীরা প্রত্যেকেই একটি অঙ্গীকারনামা করে মামলাটি আপোষ রফা করে আসামীদের পক্ষে ওই মামলার ফাইনাল প্রতিবেদন দিয়েছেন এসআই লিটন মিয়া। তিনি ফের মামলাটি আদালতে নারাজি দিয়েছেন।
এদিকে গত ২০ ডিসেম্বর ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবীর অভিযোগে চালুয়াহাটি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোবারকপুর গ্রামের ইমরান খান পান্নাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আসামীপক্ষের সাথে এসআই লিটান মিয়ার দহরম-মহরম সম্পর্ক রয়েছে। এর আগে আদালতে কামাল খানের দায়েরকৃত মামলার আসামীগণ ইমরান খান পান্নার স্বজন।
গত ২৪ ডিসেম্বর এসআই লিটন বাদি হয়ে ৪৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০০ থেকে ১৫০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। যার মামলা নম্বর-১১/২৩২। প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে চাদাবাজি মামলার বাদি শাহিন খান বাবু এবং ওই মামলার স্বাক্ষী রাজু আহম্মেদ ও কামাল খানকে জড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে ওই চাঁদাবাজির মামলার আসামী ইমরান খান পান্নাকে এসআই লিটন মিয়ার দায়েরকৃত বিশেষ ক্ষমতার আইনের মামলায় স্বাক্ষী করা হয়েছে। এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এসআই লিটনের ভূমিকায় পুলিশের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ব্যাপারে এসআই লিটন অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে তাদেরকে মামলার আসামী করা হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলার স্বাক্ষীদের স্বাক্ষর জাল করা হয়নি।
মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূর-ই আলম সিদ্দিকী বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।