খুলনা জেলখানা খেয়াঘাটে ভৈরব নদীতে সেতু নির্মাণের একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
খুলনা সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি খুলনা সড়ক বিভাগের আওতায় গৃহীত পরিকল্পনায় কাজ সমূহের একটি বিবরণী তৈরি করেছে। বিবরণীর ১৪নং তালিকায় শ্রীফলতলা-সেনেরবাজার (জেড-৭০৪২) সড়কের ১ম কিলোমিটারে ভৈরব নদীতে জেলখানা ঘাটে সেতু নির্মাণের একটি প্রকল্প তৈরি করেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে জাইকার অর্থায়নে। প্রকল্পটির দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩০০ মিটার এবং প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা।
এছাড়া রূপসা উপজেলার সঙ্গে খুলনা শহরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে জেলখানা খেয়াঘাটের ভৈরব নদীতে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য গত ২৯ নভেম্বর সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) সড়ক ভবন ঢাকা থেকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর ব্রীজ ম্যানেজমেন্ট উইংয়ের সেতু নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ সার্কেল এবং সেতু ডিজাইন সার্কেলের কর্মকর্তাবৃন্দ খুলনার জেলখানা খেয়াঘাট এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
সড়ক ও জনপথের একটি সূত্র জানায়, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো তৈরির ক্ষেত্রে স্ব স্ব এলাকার স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দের সঙ্গে পরামর্শ এবং তাঁদের নির্দেশনা মোতাবেক প্রকল্প গুলো তৈরি করা হয়।
দিঘলিয়া, তেরখাদা ও রূপসা উপজেলার (খুলনা-৪ আসন) সঙ্গে খুলনা শহরের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ২০১৪ সালের ৭ জুলাই দিঘলিয়া উপজেলার সুগন্ধি গ্রামের কৃতী সন্তান ও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ডক্টর মশিউর রহমান জেলখানা খেয়াঘাটে ভৈরব নদীর উপর, দিঘলিয়ার নগরঘাট ভৈরব নদীর উপর এবং দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের আতাই নদীর উপর মোট তিনটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব সম্বলিত একটি ডিও লেটার তৎকালীন সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে প্রদান করেছিলেন। ডিও নং (২৪. ৩৯.১৬. ০০. ০০.৩১.২০১৪ - ৮৯) তাং ১৬/০৭/২০১৪। ওই ডিও লেটার এর অনুলিপি তিনি তৎকালীন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও প্রয়াত খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এসএম মোস্তফা রশিদী সুজা এর কাছেও প্রদান করেছিলেন।
কোন অঞ্চল বা জনপদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। সারাদেশে উন্নত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরির লক্ষ্যে সরকার নানাবিধ পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার নেটওয়ার্ক তৈরির ক্ষেত্রে সরকারের এসব পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ দিতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ খুলনা জোন খুলনা সড়ক বিভাগের আওতাধীন খুলনাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে একের পর এক বিভিন্ন ধরণের প্রকল্পের প্রস্তাবনা তৈরি করছে এবং অনুমোদিত প্রকল্পগুলো বাস্তবে রূপ দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
জেলখানা খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট, তেরখাদা এবং নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার হাজার হাজার মানুষ মালামালসহ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভৈরব নদী পারাপার হয়। বর্ষা মৌসুমে নদী পারাপারের সময় লোকজনকে দূর্ভোগ এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়। স্বাধীনতার ৫০ বছরেও জন গুরুত্বপূর্ণ এ ভৈরব নদীতে এ রুটে কোন সেতু নির্মিত হয়নি। এ ছাড়া রূপসা উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি জেলখানা খেয়াঘাটে ভৈরব নদীর উপর সেতু নির্মাণের। তাঁদের সে দাবি এবং স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিবে এটাই খুলনাবাসীর প্রত্যাশা।