বগুড়ার গাবতলীতে নির্বাচনী সহিংশতায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত সহদর দুই ভাইয়ের মধ্য ৪ দিন পর হাসপাতলে চিকিৎসাধিন অবস্থায় ছোট ভাই রাজু মিয়া সরকার (৪০)’র মৃত্যু হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯ টায় উপজেলার নশিপুর ইউনিয়নের কোলারবাড়ি গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আহত দুইভাই একই গ্রামের পিতামৃত মুজিবুর রমানের ছেলে, আমজাদ হোসেন সরকার (৪৫) ও রাজু মিয়া সরকার (৪০) কে মুমুর্ষ অবস্থায় বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ঘটনার রাতেই গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জিয়া লতিফুল ইসলামের নির্দেশে, বাগবাড়ি ফাঁড়ির পুলিশ হামলার সাথে জড়িত কোলারবাড়ি গ্রামের মৃত মাহফুজার রহমানের ছেলে ফেরদৌস হোসেন (৩২) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
জানাগেছে, গাবতলী উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নে ৫ জানুয়ারী ২০২২ তারিখে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নশিপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মোনোনিত মোঃ আবদুল কালাম আজাদ নৌকা প্রতিকনিয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন। নৌকা মার্কার পক্ষে প্রচারনা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন দুই ভাই আমজাদ হোসেন সরকার ও রাজু মিয়া সরকার। পথিমধ্য কোলার বাড়ি সরকারি রাস্তার উপর প্রতিপক্ষ প্রার্থীর ১০/১২ জন লোক দেশিয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে ও হামলা করে। হামলাকারীরা আমজাদ ও রাজু মিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলাপাথারী ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। আহতদের চিৎকারে লোকজন ছুটে আসার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আজমাদ ও রাজুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (শজিমেক) ভর্তি করে। শজিমেকে চিকিৎসাধিন অবস্থায় ৪ দিন পর ১৯ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১১ টায় আহত ছোট ভাই রাজু মিয়া সরকারের মৃত্যু হয়।
ছুরিকাঘাতের ঘটনার পরদিন ১৭ ডিসেম্বর রাতে গাবতলী মডেল থানায় আহত বড় ভাই আমজাদ হোসেন সরকার বাদী হয়ে একটি মামলা করে। মামলাটি বাগবাড়ি ফাঁড়ির সাব-ইন্সপেক্টর আবদুল খালেকের উপর তদন্ত দেয়া হয়। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামি করে। গ্রেফতারকৃত ইউসুফ আলীকে প্রধান করে, রফিকুল ইসলাম, আলম, কামরুল ইসলাম, লালন, সোহাগ, রায়হান, আবদুল কাদের প্রাং, আনিছুর, জাহিদুল ইসলাম ও হারুনর রশিদকে আসামি করা হয়েছে। ২০ ডিসেম্বর ময়না তদন্ত শেষে লাশ রাজু মিয়ার গ্রামের বাড়ি কোলার বাড়িতে আসলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সতর্কবস্থায় থাকায় বড় কোন ঘটনা ঘটেনি।
এব্যপারে গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জিয়া লতিফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনার রাতেই মুল হামলাকারী ফেরদৌসকে গ্রেফতার করা হয়, পরদিন আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার সাথে সংযুক্ত ধারার সাথে, হত্যার ধারা যুক্ত হবে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। নতুন করে কোন সহিংস ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশের টহল জোরদারসহ সতর্ক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।