খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইখানা গ্রামের মনির হাওলাদারের পুত্র তৌকির হওলাদার(২০)। ২০১৭ সাল। ২টা ফেরির মুখোমুখি সংঘর্ষে হাসনা হেনা নামক ফেরির যাত্রী তৌকির আজ পঙ্গু। কারণ তার পা সংঘর্ষে থেতলে যায়। তার ২টো পা কেটে ফেলা হয়েছিল। এত বড় ক্ষতির পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন আকুতি কাজ করেনি। সারা বছর শুধু মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে এসেছে। পুলিশ কোন মামলা করেছিল কিনা জানেনা তৌকিরের স্বজনরা। কিন্তু সেদিন তৌকিরের স্বজনরা আইনের আশ্রয় নেয়নি বিআইডব্লিউটিএ'র কর্তৃপক্ষের মিথ্যা আশ্বাসে। কিন্তু তাঁরা আজ মালুম ভুলে গেছে জ্যোৎস্না রাতের ফুট ফুটে শিশু তৌকির আজ বিকলাঙ্গ। মাত্র ৪ বছরের ব্যবধানে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ সব কিছু মালুম ভুলে গেছে সে দিনের সেই ভয়ংকর দুর্ঘটনার কথা।
বিকলঙ্গ তৌকিরের হতভাগ্য পিতা-মাতা ভারাক্রান্ত মন নিয়ে সে দিনের সেই ভয়াল দুর্ঘটনা ও বিআইডব্লিউটিএ'র কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার বর্ণনা দেন।
২০১৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর। সকাল পৌনে ৭ টার দিকে পাটুরিয়া থেকে ৪টি যাত্রীবাহী বাস, ৩টি ট্রাক ও একটি ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে হাসনাহেনা নামের ফেরি দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে মাঝ নদীতে পৌঁছালে হঠাৎ কুয়াশার জালে আটকা পড়ে। ফেরিটি দৌলতদিয়া ঘাটের কাছে চ্যানেলে পৌঁছামাত্র বিপরীত দিক থেকে আসা ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন নামের ফেরির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে হাসনাহেনার র্যামের সামনের অংশ ভেঙ্গে মারাতœক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ফেরিতে থাকা প্রতিটা গাড়ি নিজ জায়গা ছেড়ে একে একে সামনের গাড়ির সঙ্গে প্রচ- জোরে ধাক্কা মারে। সবার আগে র্যামের সামনে থাকা পণ্যবাহী ট্রাক সজোরে র্যামে গিয়ে ধাক্কা মারে। এ সময় দাঁড়িয়ে থাকা তৌকির হাওলাদার(২০) এর ২টি পা ভেঙ্গে গুরুতর জখম হয়। শুধু তৌকির নয়, ফেরিতে থাকা ১২জন যাত্রী আহত হয়। গুরুতর আহত তৌকির হাওলাদারকে প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার পা ২টো ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। চিকিৎসকরা তার পা ২টো হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলে দেয়। যাদের ভুলের বলি হলো তৌকিরের স্বাভাবিক জীবন তাদের কাছ থেকে সে কি পেলো এটাই বিজ্ঞ মহলের জিজ্ঞাসা। এদিকে এ ব্যাপারে এ প্রতিবেদকের কথা হয় বিআইডব্লিউটিএ'র তৎকালীন দৌলতদিয়ায় কর্মরত একজন নেতা ফয়েজের সাথে। তিনি বলেন মানুষের মধ্যে মানবতাবোধ নেই। কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্থ ছেলেটার জন্য মানবিক দিক থেকে অনেক কিছু করতে পারত। কিন্তু তারা কিছুই করেনি। আমি ব্যক্তিগতভাবে সধ্যাতীত করেছি। আমি এখন অবসরে। আমার সাথে এখন আর কারো যোগাযোগ নেই। তৌকিরের অভাগা পিতা-মাতা এ ব্যাপারে ন্যায় বিচার চায়। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে তৌকিরের জন্য করা হোক যাতে করে তার ভবিষ্যত জীবনের একটা অবলম্বন হয়।