কোনপ্রকার দরপত্র ছাড়াই মাদরাসার পুরাতন ভবন ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষ মাওঃ হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি বগুড়া তথা উত্তরবঙ্গের সুনামধন্য শেরপুর শহীদিয়া আলীয়া কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদরাসার পুরাতন বিজ্ঞান ভবন ভাঙ্গা নিয়ে। পরিত্যক্ত বিজ্ঞান ভবনটি তৎকালীন সময়ে ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্টের অর্থায়নে তৈরী করা হয়েছিল বলে প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও প্রবীন শিক্ষকরা জানিয়েছেন।
জানা যায়, ১৯৩৭ সালে শেরপুরের প্রাণকেন্দ্রে করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরবর্তী প্রায় ২২বিঘা সম্পত্তির উপরে শেরপুর শহীদিয়া আলীয়া কামিল মাদরাসাটি স্থাপিত হয়। ওই মাদরাসার নামে প্রায় ৫২ একর সম্পত্তি দান করেছিলেন বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকজন শিক্ষানুরাগী।
শহীদিয়া কামিল মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে বেশ কয়েকজন অধ্যক্ষ বেশ সুনামের সাথে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছিলেন। গত ২০১৩ সালের দিকে বর্তমান অধ্যক্ষ মাও. হাফিজুর রহমান ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেই বিভিন্ন অনিময় ও অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সম্প্রতি শেরপুর শহিদীয়া আলিয়া কামিল স্নাতকোত্তর মাদ্রাসা চত্ত্বরে ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্টের অর্থায়নে নির্মিত বিজ্ঞান ভবনটি পরিত্যক্ত দেখিয়ে কোন প্রকার দরপত্র বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ভেঙ্গে ফেলেন অধ্যক্ষ।
তবে বিধি সম্মতভাবে ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা হবে বলে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নিলুফা ইয়াসমিন জানালেও অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান বলেন ভবনটি নিয়ম মেনেই ভাঙা হয়েছে। তবে ওই মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. মকবুল হোসেন বলেন, আমার জানা মতে রেজুলেশন আছে। কিন্তু টেন্ডার ছাড়া বিল্ডিং ভাঙ্গার বিষয়টি আমার জানা নাই। একই মন্তব্য করেন কমিটির আরেক সদস্য অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মজনু।
বিশ^স্ত সূত্রে জানা যায়, ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাও হাফিজুর রহমান শেরপুর আলীয়া মাদরাসায় যোগদানের পর থেকেই নানাবিধ উন্নয়নের নামে প্রতিষ্ঠানে অনুকূলে প্রচুর টাকার সম্পদ লুটপাটের করে আসছে। ইতঃপূর্বে আলীয়া মাদরাসার নামে থাকা খন্দকার টোলা মৌজার ৫বিঘা জমি নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করা হয়। এরপর ২০ বিঘা সম্পত্তি মাদরাসার নামে ক্রয় করার দাবী করা হলেও তার সত্যতা মেলেনি। অধ্যক্ষ আরো জানান, পুরাতন ভবনের স্থানে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫তলা ভবনের ভিত্তি দেয়া হবে। তবে বিল্ডিং নির্মাণের কোন কমিটি বা বিল্ডিং প্লান পাশ করা এখনও হয়নি।
এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বগুড়া জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি মোছা. নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, বিধি সম্মতভাবে পরিত্যক্ত ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে কিনা আমি জানি না, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।