স্বাধীনতা সংগ্রামে মাওলানা ভাসানী, হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সরাইলের সন্তান দেওয়ান মাহবুব আলী কুতুব মিয়া ও আবদুল হালিমদের ত্যাগ জাঁতি মনে রাখবে আজীবন। তাদের কাছে অনন্তকাল ঋণী থাকবে বাঙ্গালী জাতি। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী ও সাহসী নেতৃত্ব সারা পৃথিবীকে অবাক করেছে। আমাদেরকে দিয়েছে স্বাধীনতা। স্বাধীনতা সংগ্রামে সরাইলের অবদানও কম নয়। ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের বলিষ্ট ভূমিকায় পালিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী। সরাইল হয়েছিল মুক্ত। সরাইল থানা চত্বরে মুকিযোদ্ধারা উড়িয়েছিল লাল-সবুজের পতাকা। আজ সেই গৌরবোজ্জ্বল দিন। এইদিনেই পরাধীনতার অন্ধকার ঘুচিয়ে স্বাধীনতার সূর্য জন্ম দিয়েছিলেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। বর্তমানে ধর্মের নামে দেশকে বিভক্ত করার চক্রান্ত চলছে। অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ দেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোন বিকল্প নেই। বুধবার সরাইল মুক্তদিবসের আলোচনা সভায় উপরোল্লেখিত কথা গুলো বলেন বক্তারা। সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক মো. মাহফুজ আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা। বক্তব্য রাখেন- উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রোকেয়া বেগম, সহকারি কমিশনার (ভূমি) ফারহানা নাছরিন, সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) মো. আনিসুর রহমান, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসলাম হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধকালীন কমান্ডার মো. আব্দুল্লাহ ভূঁইয়া, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মো. আনোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, মো. কামাল খান, জেলা পরিষদ সদস্য পায়েল হোসেন মৃধা ও ইউনিভার্সেল হাসপাতালের পক্ষে নারায়ণ চক্রবর্তী। এর আগে সকালে জাতীয় পতাকা উত্তালন শেষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক মৃদুল, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ, মুক্তিযোদ্ধা, সরাইলের সচেতন নাগরিকবৃন্দ ও এলাকার শিক্ষার্থীরা।