বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে পানি বৃদ্ধি ও বৃষ্টিতে সুন্দরবনের দুবলারচর ডুবে যাওয়ায় জেলেদের শুঁটকির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড় হাওয়ার কারণে জেলেদের নৌকা ও ট্রলার সুন্দরবনের ছোট ছোট খালে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে।
দুবলার চরের মাঝেরকিল্লা থেকে চট্টগ্রামের জাহিদ বহদ্দার ও শরণখোলার জেলে ইউনুস আলী ফকির সোমবার সকালে মোবাইল ফোনে জানান, রোববার রাতে ঘূর্ণীঝড় জাওয়াদ দুবলারচর অঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে যায়। এ সময় প্রবল বর্ষণের সাথে বঙ্গোপসাগরের পানি বেড়ে ৩/৪ ফুট উচ্চতায় মাঝেরকিল্লাসহ আশেপাশের চর সমূহ ডুবে যায়। পানিতে সেখানের কোটি টাকার শুঁটকি মাছ ভিজে নষ্ট এবং বিপুল পরিমাণ মাছ সাগরে ভেসে গেছে। ঝড়ো হাওয়ায় জেলেদের অস্থায়ী ছাউনি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় জেলেরা দুর্ভোগে পড়েছেন বলে তিনি জানান। দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, শানি ও রোববার রাতে আলোরকোলে জেলেদের মাছ শুকানোর মাচা ও মাঠ ৩/৪ ফুট পানির নীচে ডুবে যায়। এতে জেলেদের শুটকি প্রক্রিয়াকরন বহুমাছ ভেসে যায়। পানিতে জেলেদের থাকার এবং রান্না করার স্থান ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় তারা অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের জেলেপল্লী দুবলা ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রহলাদ চন্দ্র রায় মুঠোফোনে জানান, জলোচ্ছাসে দুবলার আলোরকোল, মাঝেরকেল্লা, নারিকেলবাড়ীয়া ও শ্যালারচর তিনফুটের বেশী পানির নীচে ডুবে যায়। ফলে জেলেদের বিপুল পরিমাণ শুঁটকি মাছ সাগরে ভেসে যায় এবং অনেক মাছ ভিজে নষ্ট হয়েছে। প্রাথমিক হিসেবে জেলেদের দুইকোটি টাকার বেশী ক্ষতি হয়েছে বলে জানাগেছে। সাগর উত্তাল থাকায় অনেক ফিশিংবোট ও জেলে নৌকা সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে বলে তিনি জানান।