খুলনার পাইকগাছায় স্বাধীনতার ৫০বছরেও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ হয়নি। ফলে ফায়ার সার্ভিস না থাকায় অগ্নিকা-ে বছরে কোটি কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে ভস্মীভূত হচ্ছে। নিস্বঃ হচ্ছে সম্পদ সম্পত্তির মালিক। উপজেলায় বাণিজিক শহর কপিলমুনি বাজার ও পৌর সদরসহ প্রায় অর্ধশত ছোট বড় বাজার রয়েছে। উপজেলায় তিনটি আদালত ভবন, ফিলিং স্টেশনসহ সরকারী গুরুত্বপূর্ণ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত ৩ ডিসেম্বর গভীর রাতে উপজেলার গড়ইখালী ইউনিয়নে দক্ষিণ কুমখালী বুলবুল অটো রাইস মিলে আগুন লাগে। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৩ টার দিকে সাতক্ষীরার আশাশুনি থানা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট দেড় ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনেন। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে সব পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়। মিল মালিক বুলবুল জানান, মধ্যরাতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। আগুনে ব্যবসায়ীদের রক্ষিত ৫শ বস্তা ধান, ৪শ বস্তা চাল সহ মিলের ১০টি আটো মটর ও যন্ত্রপাতি সহ কোটি টাকা সম্পদ ক্ষতি হয়েছে। এর আগে ১৫ অক্টোবর পৌর সদরের জাকারিয়া মটর সাইকেল গ্যারেজ আগুনে পুড়ে আনুমানিক ১০ লক্ষ টাকার মালামাল ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে গ্যারেজ মালিক জানায়। একই বছরে ১১ জানুয়ারী রাত ৯টার দিকে উপজেলার বাণিজ্যিক শহর কপিলমুনি (বিনোদগঞ্জ) মুদি দোকানসহ আশপাশে কয়েকটি দোকান ভয়াবহ অগ্নিকা-ে ভস্মীভূত হয়। সে সময় খুলনার ডুমুরিয়া থেকে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পদ আগুনে পুড়ে ছাই হয়। এর ২০দিন পরেই ৩১ জানুয়ারী গভীর রাতে একই বাজারে আগুনে পুড়ে ছাই হয় প্রতিবন্ধী তৈয়েবুরের বেঁচে থাকার স্বপ্ন। তার কপিলমুনি নিউ কপোতাক্ষ কম্পিউটারে ভয়াবহ অগ্নিকা-ে ঘটনায় ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, ফটোকপি মেশিন, স্ক্যানার, প্রিন্টার, লোডের ৫টি মোবাইল ও নগদ টাকাসহ অন্তত ৮ লক্ষাধিক টাকার মালামাল পুঁড়ে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। এভাবে প্রতি বছরই উপজেলার কোনো না কোনো স্থানে অগ্নি কান্ডে ঘটনা ঘটছে। একের পর এক আগুনে পুড়ে ক্ষয় ক্ষতি হলেও উপজেলাবাসির দীর্ঘদিনের দাবী এখনো পুরণ হয়নি। এনিয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও আজও বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমান সংসদ সদস্য পৌরসভা গঠনের প্রায় দুই দশক পর ফায়ার সর্ভিস স্টেশনের ভূমি অধিগ্রহণের জন্য জায়গা নির্ধারণ করে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন। ১৯৯৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি উপজেলা সদরের আংশিক এলাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় পাইকগাছা পৌরসভা। জেলার প্রথম পৌরসভা হওয়া সত্তেও গত ২ যুগেও নির্মিত হয়নি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। শুরু থেকেই সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মো. নুরুল হক ও মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর পৌর এলাকায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বর্তমান সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু ও মেয়র ফায়ার সার্ভিস স্টেশন করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। জেলা শহর থেকে ৬৬ কিলোমিটার দূরত্বে অত্র পৌরসভা ও উপজেলা সদর। আর বাণিজিক শহর কপিলমুনি ৫০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান হওয়ায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন জরুরী হয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় গত দুই দশকে এ উপজেলায় অগ্নিকা-ে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। অবশেষে সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের বিষয়টি অধিকগুরুত্ব দিয়ে এর ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেন। যার অংশ হিসেবে পৌর সদরের শিববাটী মৌজায় পাইকগাছা-কয়রা সড়কের পাশে ১ বিঘা জমি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জন্য নির্ধারণ করে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন। একই সাথে নির্ধারিত স্থানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের আওতাধীন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সাইন বোর্ড টানানো হয়েছে। উপজেলাবাসির দাবি আর যাতে আগুনে পুড়ে সব কিছু শেষ না হয় সে বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।