বগুড়ার সারিয়াকান্দি পৌর এলাকায় এক যুবতী ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পরেছেন। যুবতীর পেটে আসা অনাগত সন্তানকে নষ্ট করা জন্য ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে সন্তান নষ্ট করা সম্ভব হয়নি। নষ্ট করতে না পারায় যুবতীকে বাড়ীতে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তাকে বাড়ীর বাহিরে যেতে দেওয়া হচ্ছেনা। এমনকি থানায় অভিযোগ দায়ের বা অন্য কারো সাথে কথা বলা নিষেধ করে দিয়েছেন একটি প্রভাবশালী মহল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সারিয়াকান্দির পৌর এলাকার ৭ নং ওয়ার্ড বাগবেড় গ্রাম অবস্থিত। এ গ্রামের মধ্যদিয়ে নির্মান করা হয়েছে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। ঢালু বাঁধের জায়গায় বাড়ী ঘর করছেন, নদী ভাঙ্গনে গৃহহীন হওয়া পরিবার নাজিম উদ্দিন প্রাং। নাজিম উদ্দিন যমুনা নদীতে মাছ ধরে কোন রকমে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। দিন এনে দিন খাওয়া সংসার তাঁর। ওই যুবতী অভাবের কারণে বাড়ীর পার্শ্বে স্কুল থাকলেও যাওয়া হয়নি তাঁর। তিনি বাঁধের পশ্চিম পার্শ্বের বরকতুল্লাহ নামে এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টাবলের বাসা বাড়ীতে ঝি-এর কাজ করেন। বরকতুল্লাহর বাবার নাম মৃত: জুল কাদের প্রামানিক। যুবতী বলেন, বাড়ীতে কেউ না থাকার সুবাদে রাতের বেলা একা পেয়ে অনৈতিক কাজ করেন বরকতুল্লাহ এবং আমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পরি। যুবতীর মা বেঁচে নেই। সৎ মা রোজিনা বলেন, অনাগত সন্তানকে নষ্ট করার জন্য ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিলো। আমরা বগুড়ার একটি ক্লিনিকে গিয়েছিলাম। অনাগত সন্তানের বয়স ১৯ সপ্তাহ। তাকে আর নষ্ট করা যাবেনা। চিকিসক বলেছেন, তাতে মৃত্যুর ঝুঁকি আছে। সেই জন্য আমরা সেটি না করে বাড়ীতে ফিরে আসি। সৎ মা রোজিনা অভিযোগ করে বলেন, তারা মেয়েকে বাড়ী থেকে বেরুতে দিচ্ছেননা। তারা বলেছেন, সন্তান জন্মের পর অন্য জায়গায় বা অন্য কাউকে পুষনা দিতে হবে। এখন আমরা তাদের ভয়ে মেয়েটিকে নিয়ে বাড়ীর বাহিরে যেতে পারছিনা। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বরকতুল্লাহর সাথে একাধিকবার বাড়ীতে গিয়ে ও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। তবে তার ছোট ছেলে খায়রুল বলেছেন, আমার বাবা ওই কাজ করতে পারে না। সে বিভিন্ন থানায় সুনামের সহিত পুলিশি দায়িত্ব পালন করছেন। ৭নং ওয়ার্ড কমিশনার শিতাবুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সত্য তবে কার দ্বারা এ কাজটি হয়েছে তা আমার জানা নাই। তবে স্থানীয়ভাবে একটা আপন-মিমাংসার চেষ্টা চলছে।