বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী হাবিবুর রহমান বুলেট (৩৮) কে দ্ইু দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেয়া হয়েছিলো। তবে স্ত্রী হত্যা সম্পর্কে তেমন কোন তথ্য দেয়নি। রিমান্ড শেষে গতকাল (রোববার) সকালে পুনরায় কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সারিয়াকান্দির হাটশেরপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দ বলাইল পশ্চিমপাড়া গ্রামের ওই হাবিবুর রহমান বিয়ে করেন ১৬ বছর আগে একই উপজেলা হরিণা গ্রামের আবু বক্করের মেয়ে রাবেয়াকে। বিয়ের পর তাদের কোলে দুটি সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু বছর খানেক আগে বুলেট পরকিয়ার জড়িয়ে একই ইউনিয়নের চর বরুরবাড়ী গ্রামের নদী নামের এক মেয়েকে বিয়ে করেন। এই বিয়ের পর থেকেই প্রথম স্ত্রী রাবেয়ার সাথে ভালোভাবে বনি-বনা হচ্ছিলনা। রাবেয়া বাবা আবু বক্কর ওরফে বাক্কা বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের পরই আমার কাছ থেকে দুই লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে বসেন, জামাই হাবিবুর রহমান বুলেট। যৌতুক না পেয়ে গত ২৭শে জুন দুপুরের দিকে আমার মেয়ে রাবেয়াকে (৩২) এলোপাথারী শরীরের বিভিন্ন স্থানে ও মাথায় লাঠির আঘাত করে। এতে সে গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পরলে, প্রথমে তাকে সারিয়াকান্দি হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু অবস্থার আরো অবনতি হলে পরে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাটপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু ওই দিন রাত তিন টার দিয়ে রাবেয়া মারা যায়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এ ব্যাপারে সারিয়াকান্দি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ নেয়নি। পরে বগুড়া কোর্টে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ ইউডি মামলা দায়েরের পর রাবেয়ার মরদেহ পোস্ট মর্টেম করা হয়। তাতে মাথার একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে মর্মে ডাক্তার পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে উল্লেখ করেন। সারিয়াকান্দি থানার পরিদর্শক (তদন্ত): মো: লাল মিয়া বলেন, স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই সে পলাতক ছিলো। কয়েকদিন আগে নিজ বাড়ীতে এলে বুলেটকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত বুধবার আদালতে রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং শুক্রবার থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার কোর্টে চালান দেওয়া হয়েছে। তবে স্ত্রীকে হত্যা করা নিয়ে কোন মুখ খোলেননি।