খুলনার পাইকগাছায় বাল্য বিয়ের কবল থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগমের হস্তক্ষেপে স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করে শর্ত সাপেক্ষে পিতার হাতে তুলে দেওয়া হয়। ওই ছাত্রী মানসিক ভাবে ভেঙে পড়লে বৃহস্পতিবার সকালে ফিনিস পাউডার পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবারো তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ভর্তি করেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, বর্তমানে সে সুস্থ্য আছে। আর এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের কৈয়াসিটিবুনিয়া গ্রামে। জানাগেছে, গোপণ সূত্রে ইউএনও মমতাজ বেগমের নির্দেশে বুধবার সকালে আনছার ও ভিডিপি প্রশিক্ষক আলতাফ হোসেন, ইউনিয়ন লিডার ফয়সাল, জুলিয়া ও কমান্ডার আবু হানিফ কৈয়াসিটিবুনিয়া গ্রামের মধু সরদারের বাড়ীতে পৌঁছায়। অভিযোগ উঠে এখানে বাল্য বিয়ের চেষ্টার সময় কাঁটাবুনিয়ার ৯ম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ছেলের পিতা মধু সরদারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সাথে আদালত অ-প্রাপ্ত বয়সে বিয়ে দেবেন না মর্মে সিদ্ধান্ত নিয়ে মেয়েকে পিতার হাতে দেন এবং এ বিষয়ে উভয় পক্ষ থেকে অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর করে নেয়। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে ঐ স্কুল ছাত্রী সকালে মোবাইলে ম্যাসেঞ্জারে কথা চালাচালির সময় তার মা ফোনটি কেড়ে নেয়। এরপর মেয়ের বাবা মাছ নিয়ে চাঁদখালী বাজারে গেলে সুযোগ বুঝে মেয়ে ফিনিস পাউডার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাড়ীতে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় আনছার ও ভিডিপি সদস্যরা ছাত্রীকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। ছাত্রীর মা অভিযোগ করেন মধু সরদারের পরিবার তার মেয়েকে প্রলোভন দেখিয়ে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম বলেন, অঙ্গীকার ভঙ্গ করে পিতা স্কুল ছাত্রীকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তবে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।