বগুড়ার নন্দীগ্রামে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ’র বহিস্কারের দাবি করলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীরা।
মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় নন্দীগ্রামে আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলার চারটি ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে নন্দীগ্রাম চারটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে ভাটগ্রাম ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি জুলফিকার আলী লিখিত বক্তব্যে বলেন, আগামী ২৬ ডিসেম্বর নন্দীগ্রাম উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই আলোকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা গত ২১ নভেম্বর চতুর্থ ধাপের নন্দীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আমাদেরকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য মনোনীত করেন। সেই মনোনয়নকে কেন্দ্র করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে ও মনোনয়নকে চ্যালেঞ্জ করে বক্তব্য দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, সে ইতঃপূর্বে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেন। পরবর্তিতে ২০১৪ সালেও পুনরায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। সেই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ষড়যন্ত্র করে পরাজিত করেন। এই নির্বাচনে তার ষড়যন্ত্রের কারণে জামায়াতের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সহযোগীতায় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। জিন্নাহ কোন নির্বাচনীই তার পছন্দের প্রার্থী মনোনয়ন না পেলে, দলের বিরুদ্ধে এবং নৌকার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই ভোট করেন। এবারও তিনি বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে ভোট করছেন। শুধু এই নির্বাচন নই, পূর্বের সকল ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা, সংসদ নির্বাচনে তার প্রকাশ্যে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া একটি অন্যতম উদাহরণ। এ ছাড়া দলীয় সকল কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত করে রাজনীতি করেন।
আমরা তার ওই অপকর্মের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহকে দল থেকে বহিস্কারের জোর দাবি করছি। অন্যথায় নৌকার পরাজয়ের সকল দায়ভার রেজাউল আশরাফ জিন্নাহকে বহন করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী মখলেছুর রহমান, মোরশেদুল বারী, হাফিজুর রহমান।
এবিষয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ বলেন, আমি কোথাও নৌকার বিপক্ষে প্রচারণা করছি না। বরং আমি নৌকার পক্ষেই ভোট করছি। আমার বিরুদ্ধে কেন চার প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করলো তা জানা নেই।