পাবনার চাটমোহর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন আগামীকাল রোববার । ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি সহিংস ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছেন কয়েকজন। মামলা হয়েছে একাধিক। সহিংস ঘটনা ঘটায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। ভোটাররা রয়েছেন নানা শঙ্কায়। শনিবার (২৭ নভেম্বর) ব্যালট পেপার ছাড়া আনুষঙ্গিক সকল উপকরণ ও কেন্দ্রের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা,পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সকল ভোট কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। রোববার ভোটের দিন সকালে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ আলমগীর হোসেন বলেছেন,নির্বাচনকে ঘিরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের কঠোর অবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোট হবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে। ভোটের দিন সকালে প্রতিটি কেন্দ্রে পাঠানো হবে ব্যালট পেপার।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সৈকত ইসলাম বলেছেন,নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়াও প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ,বিজিবি,র্যাব ও আনসার সদস্য থাকবেন নির্বাচনে। তারা যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে প্রস্তুত থাকবে। তিনি বলেন সার্বিক পরিস্থিতি ভালো রয়েছে।
তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের এ নির্বাচনে ১৪১ পদের বিপরীতে ৫৭০জন প্রার্থী ভোটের মাঠে নেমেছেন। ইতোমধ্যে ২ জন মেম্বার প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে ১১টি চেয়ারম্যানের পদের বিপরীতে ৪০ জন,সংরক্ষিত মহিলা ৩৩ পদের বিপরীতে ১৪৮ জন ও সাধারণ সদস্য (মেম্বার) ৯৭ পদের বিপরীতে ৩৮২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১১টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ১১জন প্রার্থী নির্বাচন করলেও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন ৮জন। বিএনপি’র স্থানীয় ৭ নেতা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে মোট ভোট কেন্দ্র ১০৫টি। মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ১৭ হাজার ১০৮জন। এরমধ্যে নারী ১ লাখ ৮ হাজার ২৯৫জন ও পুরুষ ১ লাখ ৮ হাজার ৮১৩জন। নির্বাচনে মোট ভোট কেন্দ্র ১০৫টি। ৫ জন রিটার্নিং অফিসার দায়িত্ব পালন করছেন।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সবার মাঝে শঙ্কা কাজ করলেও প্রশাসন সুষ্ঠু.শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সব প্রার্থীই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে মতামত দিয়েছেন। ভোটাররাও চান নির্বিঘেœ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে। গোটা উপজেলা জুড়ে এখন নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। সকলেই চান সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন।