খুলনার পাইকগাছায় পৌর সদরের ঐতিহ্যবাহী মধুমিতা পার্কের উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে খুলনা জেলা পরিষদ। ইতোমধ্যে পার্কের পুকুরটি খনন করা হয়েছে। চলমান রয়েছে সীমানা প্রাচীর ও সড়ক উন্নয়ন কাজ। পার্কের উন্নয়ন বাস্তবায়ন হলে মধুমিতা পার্কের পূর্বের ঐতিহ্য ফিরে আসবে এমনটাই মনে করছেন এলাকাবাসী। পৌর সদরের প্রাণ কেন্দ্রেই অবস্থিত মধুমিতা পার্ক। জেলা পরিষদের ২ একর জায়গার উপর পার্কটি ৮০’র দশকে অত্র এলাকার বিনোদনের অন্যতম একটি মাধ্যম ছিল। এটি অনেকের কাছে মিষ্টি পুকুর হিসেবেও পরিচিত। একসময় এলাকার সব শ্রেণির মানুষের কাছে বেশ প্রিয় ছিল মধুমিতা পার্কটি। পার্কের পাশের চিকিৎসক ডা. পীযুষ কুমার সরকার জানান, আমাদের মতো বয়সের যারা তারা অনেকেই পার্কে এসে সময় কাটাতো। তখন পার্কের মনোরম পরিবেশ ছিল, বসার জন্য ব্যস্ত ছিল। শিশু-কিশোররাও পার্কে এসে অনেক আনন্দ পেত। ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় পার্কের সেই ঐতিহ্য। সময়ের ব্যবধানে ইতোমধ্যে পার্কের বেশিরভাগ সীমানা প্রাচীর নষ্ট হয়ে গেছে। পার্কের দু’পাশে মার্কেট সহ গড়ে উঠেছে বিভিন্ন স্থাপনা। মনের টানে এখনো মাঝে মধ্যে পার্কে যাই কিন্তু পূর্বের সেই ভালোলাগা খুঁজে পাইনা বলে মন্তব্য করেন শিবসা সাহিত্য অঙ্গণ ও সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি সুরাইয়া বানু ডলি। তিনি বলেন, একসময় সকালে আমরা নারীরা পার্কে এসে মর্নিং ওয়ার্ক করতাম, আবার বিকালে এসে সবাই মিলে গল্প করে সময় কাটাতাম। পার্কের সেই ঐতিহ্য এখন আর নেই। এখন পার্কে আসলেই কান্না পায়। তবে ইদানীং পুকুর খনন সহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ দেখে মনে হচ্ছে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ পার্কের পূর্বের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুল হাসান টিপু জানান, মধুমিতা পার্কের পূর্বের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে জেলা পরিষদ থেকে নানা উদ্যোগ গ্রহণ ও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব উন্নয়নকাজে সার্বিক সহযোগিতা করছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ। তিনি আরো জানান, ইতোমধ্যে পার্কের পুকুরটি সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে পুকুরটি খনন করা হয়েছে। অত্র পুকুরের পানি পৌর বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সহ এলাকাবাসীরা খাবার পানি হিসেবে ব্যবহার করছে। এ ছাড়া পার্কের অসমাপ্ত সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। পার্কের ভিতরের যে সড়ক গুলো রয়েছে সেগুলোরও উন্নয়ন করা হবে। পুকুরের মাঝে একটি দৃষ্টিনন্দন পানির ফোয়ারা (শাপলা) স্থাপন করা হবে। মানুষের চিত্তবিনোদনের জন্য পার্কের ভিতরে বসার ও ছাতা সহ অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। এসব পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন হলে মধুমিতা পার্ক তার পূর্বের ঐতিহ্য ফিরে পাবে।