আগামী ২ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য খুলনার পাইকগাছায় ১নং হরিঢালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনে তিনজন চেয়ারম্যানসহ ৬৩ সংরক্ষিত ও সাধারণ সদস্য প্রার্থী ভোট যুদ্ধে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ৯ টি ওয়ার্ডের ১০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪ টি কেন্দ্র খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ইল্লেখ করা হয়েছে। উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম মোস্তফার মৃত্যুতে গত ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ৩ জন চেয়ারম্যান, ১২ জন সংরক্ষিত ও ৪৮ জন সাধারণ সদস্য প্রার্থী প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনে ২২ হাজার ৫ শতাধিক ভোটার ৯ টি ওয়ার্ডে ১০টি কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামাল উদ্দীন আহমেদ জানান। আওয়ামিলীগ প্রার্থী শেখ বেনজীর আহম্মেদ বাচ্চু সভা সমাবেশ করলেও স্বতন্ত্র প্রাথী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবু জাফর সিদ্দিকি রাজু ও ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলনের জিএম কামরুল (বাবলু) এখনও কোনো সভা সমাবেশ চোখে পড়েনি। তবে কয়েকজন সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায় ভোট সুষ্ঠু হলে বর্তমান চেয়ারম্যান রাজুর জয়ের সম্ভাবনা বেশী। ভোটার আবু তালেব জানান, রাজুর পিতা রফিক সরদার দীর্ঘ ৩৫ বছরের অধিক সময় এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে জনগণের সেবা করেছেন। তার মৃত্যুতে তার ছেলে রাজু পর পর দুবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এবারও তিনি সর্বাধিক ভোটে নির্বাচিত হবেন। বাচ্চু বলেন ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। এ ক্ষেত্রে তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। রাজু বলেন, উত্তর ও দক্ষিণ সোনাতনকাটি, নোয়াকাটি ও রামনাথপুর কেন্দ্র খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বহিরাগতরা এসে এলাকার নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করছে। ভোটের দিন তারা ভোট কেন্দ্র দখল ও জালভোট দেয়ার পরিকল্পনা করছে বলে তার কাছে খবর আছে। থানা ওসি জিয়াউর রহমান বলেন, এলাকায় সুষ্ঠু ও শান্তিপুর্ণ পরিবেশ বজায় আছে। নির্বাচনের সময়ও এমনটি থাকবে। কেউ কোন প্রকার অপ্রীতিকর পরিবেশ সৃষ্ঠি করার অপতৎপরতা করলে তা কঠোর হস্থে দমন করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সুযোগ নেই এবং সেটা করতে দেয়া হবেনা। এ দিকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভোট গ্রহণ দিনের পূর্ববর্তী মধ্যরাত অর্থাৎ ১ নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ২ নভেম্বর তারিখ মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে ইঞ্জিন চালিত ক্ষুদ্র নৌযান বা জনগণ তথা ভোটারদের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত ক্ষুদ্র নৌযান নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। নির্বাচনী বিধিনিষেধ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের নির্বাচনী এজেন্ট, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের (পরিচয়পত্র থাকতে হবে) ক্ষেত্রে রিটানিং অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে শিথিলযোগ্য। এ ছাড়া ১ নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ২ নভেম্বর তারিখ মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত ট্রাক ও পিকআপ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একই সাথে ৩১ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ৩ নভেম্বর মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত মোটর সাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত দেশি-বিদেশি সাংবাদিক (পরিচয়পত্র থাকতে হবে), নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, নির্বাচনের বৈধ পরিদর্শক এবং কতিপয় জরুরি কাজে যেমন-এ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক, টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য যান চলাচলের ওই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। একই সাথে ভোটার ও জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে নৌযান ও দূরপাল্লার নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। এ ছাড়া জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর ও জরুরি পণ্য সরবরাহসহ অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। এ নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।