খুলনার পাইকগাছায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। উপজেলার শ্রীকন্ঠপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. শাহমত আলী জোয়াদ্দার বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষককের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। সরেজমিনে স্কুলে গেলে তিনি পিটিএ কমিটির সভাপতি হারিছ হোসাইন জিয়ার অভিযোগের বিষয় সাংবাদিকদের সাথে এমন মন্তব্য করেন। তিনি আরোও জানান, প্রধান শিক্ষক একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক। স্কুলের শিক্ষার্থীদের রেজাল্টও ভালো। স্কুলে কোন কিছু সমস্যা হলে সেটা পরস্পরে আলোচনা করে সমাধান করা যেত। কিন্তু কমিটির কারোর সাথে মতামত না নিয়ে হুট করে উপ-কমিটির সভাপতি হারিছ হোসাইন জিয়া ক্ষোদ বিএনপি লোক হয়ে ১৫ আগস্ট নিয়ে মন্তব্য বা বঙ্গবন্ধু কর্নারে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের ছবি নোংরা পরিবেশে এলো-মেলো অবস্থায় রাখা প্রধান শিক্ষককের নামে এমন অভিযোগ তোলা এটা অতিরিক্ত দরদ দেখানো ও পরিকল্পিত। এ সম্পর্কে ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি জি এম সিরাজুল ইসলাম জানান, আমরা নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটির সভায় আয়-ব্যয় সহ বিবিধ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। কিন্তু বিদ্যালয়ে কোনো অনিয়ম বা বঙ্গবন্ধু কর্নারে নোংরা পরিবেশ থাকলে সেটা আলোচনা করা যেত। তা না করে পিটিএ সভাপতি হঠাৎ করে প্রধান শিক্ষকের নামে অভিযোগ করলেন এতে ম্যানেজিং কমিটির ভাবমূর্তি ও বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য মো. আরশাদ আলী বিশ্বাস বলেন, হারিছ হোসাইন জিয়া নিজেই বিএনপি কর্মী হিসেবে চিহ্নিত। সে অতি দরদ দেখিয়ে স্কুলের বঙ্গবন্ধু কর্নারে জাতির পিতা ও তার পরিবারের টাঙানো ছবি নিয়ে নোংরা রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন। পিটিএ কমিটির সভাপতির আনীত অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জয়া রানী দাশ বলেন, ম্যানেজিং কমিটি নিয়মিত সভায় আয়-ব্যয় দেখভাল করে এবং যার হিসাব রশিদ স্লিপ রয়েছে। কিন্তু পিটিএ সভাপতি অতিরিক্ত ক্ষমতা দেখিয়ে স্লিপের টাকা সহ সরকারী অর্থ নিজের মত করে খরচ করতে চায়। যা আমি ও ম্যানেজিং কমিটি দ্বিমত পোষণ করি। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। তিনি আরো বলেন, করোনাকালে ১ বছরের উর্ধে স্কুল বন্দ ছিল। স্কুল খোলার পর নীতিমালা অনুযায়ী নিয়মিত ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে হাজির হচ্ছে। অফিস কক্ষে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি শোভা পাচ্ছে কিন্তু বঙ্গবন্ধু কর্নারের ছোট্ট রুমের এক পাশ্বে তাকের উপর রক্ষিত বঙ্গবন্ধুর ছবি নিয়ে নোংরামি শুরু করে হয়রানী করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যুৎ রঞ্জন সাহা জানান, অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত করলে সব কিছু পরিস্কার হওয়া যাবে।