খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় নানা অপরাধীদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এরা শহরের নানা এলাকায় ঘোরাফেরা করে। সুযোগ বুঝে নানা অপরাধ সংঘটিত করছে। এরা কৌশলে ইজিবাইক চালকদের ভাড়া করে শহর থেকে দূরে কোথাও নিয়ে গিয়ে চালককে মেরে ইজিবাইক নিয়ে অবাধে পার পেয়ে যাচ্ছে। এসকল অপরাধীরা সংঘবদ্ধ হয়ে এসব অপরাধ ঘটালেও তারা থাকছে আইন-শৃঙ্খলা কাজে নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের কাছে এরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, সম্প্রতি খুলনার রূপসা এলাকা থেকে জনৈক ইজিবাইক চালকের ইজিবাইকে যাত্রী হিসেবে জেলখানা ঘাট পার করে তেরোখাদা নিয়ে যায়। ওই ইজিবাইক চালকের মরদেহ নড়াইল থেকে উদ্ধার হলেও তার ইজিবাইকের সন্ধান মেলেনি। গত সপ্তাহের দিকে ফরমাইশখানা নিবাসী মোঃ শহিদুল ইসলাম নামক ইজিবাইক চালককে খুলনার রূপসা থেকে যাত্রী উঠিয়ে টুটপাড়া মহির খাল পার হয়ে ভেতরে যায়। সেখান থেকে ইজিবাইক নিয়ে ফেরার পথে ৫/৬ জনের এক সংঘবদ্ধ চক্র তার ইজিবাইকের গতি রোধ করে। তারা শহিদকে গাড়ি থেকে নামতে বলে এবং তার কাছে চাবি চায়। এ সময় শহিদ তাদের সাথে উচ্চ শব্দে বাক্য বিনিময় করতে শুনে দূরে দোকানে বসা লোকজন তাকিয়ে পড়লে তারা ক্যাশ থেকে টাকা নিয়ে দৌড়ে পালায়।
গত শনিবার খান জাহান আলী থানার তেলিগাতি মাছের ঘের থেকে আঃ রশিদ (৪৫) নামক এক ইজিবাইক চালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে আড়ংঘাটা পুলিশ। কারা কি কারণে তাকে হত্যা করেছে তা এখনও উন্মোচিত হয়নি। মৃত আঃ রশিদ ঢালী পাবলা কবির বটতলা এলাকার ঢালীবাড়ির বাসিন্দা। গত দুই মাস আগে সে বাসা ভাড়া নেয় ফুলবাড়ীর যাব্দিপুর রেললাইনের পাশে। সেখানে সে তার স্ত্রী, দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তান নিয়ে বসবাস করত। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সে বাসা থেকে ফুলবাড়ীর উদ্দেশ্যে বের হয়। ধারণা করা হচ্ছে, কেউ বা কারা তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। কেউ কেউ বলছে সে এর আগে যেখানে থাকত,সেখান থেকে কেন বাসা পরিবর্তন করল। এখানে এসে কাদের সঙ্গে চলত এগুলো নিয়ে তদন্ত করলেই রহস্য উন্মোচন হবে।
তবে বর্তমানে খুলনা মহানগরীতে ইজিবাইক চালকদের জান-মালের ঝুঁকি পরিলক্ষিত হচ্ছে। চলতি বছরে আনুমানিক অর্ধশতাধিক ইজিবাইক চুরি ও ছিনতাই হয়েছে। গাড়ির জন্য জীবন দিতে হয়েছে বেশ কয়েকজন চালকের। খুলনা মহানগরীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইজিবাইক চালক এ প্রতিবেদককে জানান, খুলনা মহানগরীর ইজিবাইক চালকেরা জীবন ও গাড়ীর ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালায়। খুলনা শহরের মোড়ে মোড়ে ইজিবাইক চোরদের অবস্থান। এদের পিছনে প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষক আছে। যে কারণে এ সকল অপরাধীরা বেপরোয়া।
এদিকে ইজিবাইক চালকের লাশ উদ্ধার হওয়ার পর খুলনা শহরের পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে আলামতও সংগ্রহ করেছে।