দেবী দুর্গার বোধনের মধ্য দিয়ে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। মঙ্গলবার থেকে সাড়ম্বরের মাত্রাটা বেড়েছে। মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) মহাসপ্তমীর দিনে মন্ডপে মন্ডপে ঢাকের বোলে যেন ধ্বনিত হয় বাঙালি হিন্দুদের হৃদয়তন্ত্রীতে বাঁধভাঙা আনন্দের জোয়ার। মন্ডপ থেকে ভেসে আসছে উলুধ্বনি, শঙ্খ,কাঁসা ও ঢাকের বাদ্য। পাবনার চাটমোহর উপজেলার ৫৫টি পূজামন্ডপ এখন উৎসবে মাতোয়ারা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দল বেঁধে পূজা দেখতে যাচ্ছে। বিকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে। শারদীয় দুর্গোৎসবের আজ মহাসপ্তমী। আগামীকাল বুধবার মহাষ্টমী।
মহাসপ্তমীতে ছিল দেবী-দর্শন, দেবীর পায়ে ভক্তদের অঞ্জলি প্রদান ও প্রসাদ গ্রহণ। মূলত দুর্গোৎসবের মূল পর্বও শুরু হয়েছে আজ থেকেই। মহাসপ্তমীতে ষোড়শ উপাচারে অর্থাৎ ষোলটি উপাদানে দেবীর পূজা করা হয়। সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান করা হয়েছে। দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্নানীয়, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে পূজা করেন ভক্তরা। সপ্তমী পূজা উপলক্ষে সন্ধ্যায় বিভিন্ন পূজামন্ডপে ভক্তিমূলক সংগীত, রামায়ণ পালা, আরতিসহ নানা অনুষ্ঠান করা হয়। বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে সপ্তমীতে পূর্বাহ্ন ৯-৫৭ মধ্যে নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন ও সপ্তাদি কল্পারম্ভ এবং সপ্তমী বিহিত পূজা প্রশস্ত।
চাটমোহরের সকল মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে উৎসবমুখর পরিবেশে। করোনার কারণে আলোকসজ্জা সীমিত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ নির্বিঘেœ পূজানুষ্ঠানে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তিন স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
চাটমোহর থানার ওসি মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান,প্রতিটি পূজামন্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পূজানুষ্ঠানে আমরা সব ধরণের সহযোগিতা করছি।