সোমবার মহাষষ্ঠী পূজার মধ্যে দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে। খুলনার পাইকগাছায় ১৪৯টি পূজা মন্দির মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শারদীয় দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণ রূপ দিতে মন্দির মন্ডপ গুলো সাজসজ্জার শেষে পূজা চলছে। দেবীকে স্বাগত জানাতে প্রতিটি পূজামন্ডপে উৎসব মূখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সাজসজ্জাসহ প্রতিমায় ভিন্নমাত্রা পেয়েছে কপিলমুনি কেন্দ্রীয় মিলন মন্দিরে প্রতিমা। মৃৎশিল্পী উত্তম পরামাণীক জানান, প্রতিমা ডিজাইন নেট থেকে দেখে করা হয়েছে। প্রাচীন মন্দিরে প্রতিমা আদলে করা হয়েছে। মৃৎশিল্পী আরো জানান কুমিল্লা, যশোর, খুলনা সাতক্ষীর জেলা মিলে তিনি মোট ৭টি প্রতিমা করেছেন। প্রতিটি প্রতিমা সুনিপূণ হাতের ছোঁয়া ও রং আর তুলি দিয়ে দেবীর জীবন্ত রূপ ফুঁটিয়ে তুলেছেন। উপজেলায় দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে ঐতিহ্যবাহী কপিলেশ্বরী কালী মন্দির সংলগ্ন কপিলমুনি কেন্দ্রীয় মিলন মন্দির দুর্গা প্রতিমা। উপজেলায় ১৪৯টি পূজা মন্ডপের মধ্যে কিছুকিছু পূজা মন্ডপ ঘিরে চলছে ব্যাতিক্রমী আয়োজন। তারমধ্যে কপিলমুনি মিলন মন্দিরের প্রতিমাসহ সাজসজ্জায় রয়েছে ডিজিটাল আধিক্য। দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের জন্যই দেবী দুর্গা স্বর্গ থেকে আগমণ ঘটে মর্ত্যলোকে। এ বিশ^াসে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রতি বছর শারদীয় দুর্গাপূজা করেন। সারাদেশের ন্যায় এবারও খুলনা জেলা পাইকগাছা উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা, উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গাপূজা হচ্ছে। সোমবার ষষ্ঠী, মঙ্গলবার সপ্তমী, বুধবার অষ্টমী, বৃহস্পতিবার মহানবমী ও শুক্রবার শুভ বিজয়া দশমী মধ্যে দিয়ে ৫ দিনে দুর্গোৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটবে। কপিলমুনি কেন্দ্রীয় দুর্গাপূজা মিলন মন্দির ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত সাধু জানান, মহাকালী মায়ের তীর্থস্থান ঘিরে দুর্গা মিলন মন্দিরের অবস্থান। সেজন্য দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিমা থেকে শুরু করে সাজসজ্জা, প্যান্ডেল, আলোক সজ্জা ও সার্বিক সৌন্দর্য বর্ধণের কাজটি একটু ব্যাতিক্রমী ভাবে করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের আগমনটাও এখানে একটু বেশি। পূজাকে ঘিরে আমাদের পক্ষ থেকে আয়োজনের কোন কমতি নেই। এখনও পর্যন্ত সার্বিক পরিবেশ খুবই ভাল। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক আনন্দ মোহন বিশ্বাস জানান, সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে পূজা উদযাপন করার লক্ষ্যে প্রতিটি মন্ডপ পরিচালনা কমিটিকে দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাইকগাছা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, পূজার সময় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উপজেলা জুড়ে সার্বক্ষণিক পুলিশি টহল অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া প্রতিটি মন্ডপে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পূজার সময় কেউ আইনশৃঙ্খলা বিঘœ ঘটানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পূজা উপলক্ষে সার্বিক বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম বলেন, সোমবার থেকে টানা পাঁচদিন ব্যাপী এ শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারী থাকবে।