খুলনা-নড়াইল জেলার সংযোগ স্থলে নবগঙ্গা নদীর পাড়ে বসে বাংলাদেশের ঐতিয্যবাহী গাজীরহাট নৌকার হাট। শত বছরের ঐতিয্য এলাকার গুটি কতক লোকে এ ঐতিয্যবাহী পেশা ও ব্যবসাকে ধরে রেখেছে।
সরেজমিনে পরিদর্শন করে জানা যায়, দিঘলিয়া-নড়াইলের ঐতিয্যবাহী নৌকার হাট এ অঞ্চলের শত বছরের ঐতিয্য। এ ঐতিয্যবাহী গাজীরহাটে একসময় ছোট- বড় বিভিন্ন আকারের লঞ্চের বডি এখানে তৈরি হতো। দিঘলিয়ার গাজীরহাট একসময় লঞ্চ, স্টীমার ঘাটের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। বড় বড় একতলা ও দোতলা লঞ্চ ও স্টীমার গুলো একসময় খুলনা-দৌলতপুর-গাজীরহাট-বড়দিয়া রুটে চলাচল করত। যা বরিশাল-চাঁদপুর-ঢাকার মাঝে প্রতিনিয়ত নৌপথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সেতু বন্ধন রচনা করত। কালের বিবর্তনে এতদাঞ্চলের নৌরুটি নানা কারণে হারিয়ে গিয়েছে। তবে গণমুখি এ নৌরুট বন্ধের পিছনে বৃহত্তর খুলনা ও যশোরের রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাশসনিক ব্যক্তিদের দায়ী করেছেন এলাকার বিজ্ঞমহল।
এ এলাকার ঐতিহ্য হারিয়ে গেলেও ঐতিয্যবাহী নৌকা তৈরি ও কেনাবেচার হাটটিকে ধরে রাখতে সক্ষম হয়ছেন হাতে গোণা কতকগুলো লোক। নড়াইল-খুলনার সংযোগ স্থলে গাজীরহাট এলাকায় নবগঙ্গা নদীর পাড়ে এ নৌকার হাট বসে। শত শত নৌকা এ হাটে বিক্রয় হয়। সপ্তাহের প্রতি বুধবারে এ হাট বসে। শুধু খুলনা ও নড়াইল নয়। বাগেরহাট, ঝিনাইদহ, গোপালগঞ্জ, এমনকি পদ্মা পারের মানুষ এ হাটে আসে নৌকা কিনতে। প্রতিটা ডিঙ্গি নৌকা ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার পর্যন্ত বিক্রি হয়। কৃষি কাজের পাশাপাশি মাছ ধরা, শাপলা তোলা ও কেনাবেচার কাজে এ নৌকা বেশী ব্যবহৃত হয়। এসব নৌকা তৈরিতে পুয়াকাঠ ব্যবহৃত হয়। নোনা পোকা ওপোকা-মাকড়ের ক্ষতি থেকে এ সকল নৌকাকে রক্ষা করতে আলকাতরার মোটা প্রলেপ দিতে হয় বলে নৌকা বিক্রেতারা জানান। এ হাটের একজন সফল নৌকা ব্যবসায়ী মোঃ গোলাম কিবরিয়ার সাথে এপ্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, তিনি ২৫-৩০ বছর ধরে কৃষিকাজের পাশাপাশি নৌকার ব্যবসা করেন। এহাটে তাঁর ন্যায় ১৫ জনে ব্যবসা করেন। তিনি বা তাঁরা এ সকল নৌকা এলাকার রামভিটা থেকে কিনে আনি। সেখানে লোকজন এ নৌকাগুলো তৈরি করে। এসকল নৌকা এলাকার বামনডাঙ্গা,গাজীরহাট, বুড়িখালী, বিষ্ণুপুর, সিলুমপুর,বারাসাত, মাইচপাড়া প্রভৃতি এলাকা থেকে আগত লোকজন কিনে নিয়ে যায়। এ সকল নৌকা বহনে ট্রলার বা নছিমন ব্যবহার করা হয়। আষাঢ়মাস থেকে অগ্রহায়ন মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এ ব্যবসার মৌসুম। এসব নৌকায় সর্বোচ্চ ৮ জন লোক চড়তে পারে। ধান ও ঘাস পরিবহন এবং মাছ শিকারে এ ডিঙ্গি নৌকা ব্যবহৃত হয়। সরেজমিনে সৈয়দ জাহিদুজ্জামান কথা বলেন মনজ কুমার নামক আর একজন নৌকা বিক্রেতার সাথে। তিনি জানান, নৌকা তৈরির কারিগর তিনি নিজেই। তিনি ২ খানা নৌকা নিয়ে হাটে এসেছেন। একখানা নৌকা ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। তিনি এপ্রতিবেদককে জানান, যারা নৌকা কিনে নিয়ে যান, তারা নৌকা বাড়ি নিয়ে গিয়ে বাঁশের চটা অথবা কাঠের তক্তা দিয়ে চালি তৈরি করে মাঝে বসিয়ে নেন। একখানা নৌকা হাটে ৫ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা বিক্রি হয়ে থাকে। এসব ডিঙ্গি নৌকা তৈরি ও কেনাবেচার সাথে যাঁরা জড়িত তাঁরা সবাই এ পেশা ও ব্যবসায় সফল। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ পেশা দিন দিন দেশ থেকে বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব বলে ব্যবসায়ীগণ এ প্রতিবেদককে জানান।