খুলনার পাইকগাছায় মুক্তিযোদ্ধাদের পুর্ণবাসন প্রকল্প বীর নিবাস ঘর বরাদ্দের তালিকায় অস্বচ্ছলদের এড়িয়ে পাঁকা বাড়ী সহ স্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিকার চেয়ে ১ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করেছেন। লিখিত ভাবে তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা মো. এরমান আলী গাজী, বি এম আনিছুর রহমান, কে এম শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় ১৯ মুক্তিযোদ্ধা জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের পুর্ণবাসনের জন্য বীর নিবাস আবাসন প্রকল্পে উপজেলায় ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। যার প্রতি ঘরে ব্যয় হবে সাড়ে ১৩ লক্ষ টাকা। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কমিটি ১২ মুক্তিযোদ্ধার নাম চুড়ান্ত করে তালিকা অনুমোদন করেছেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে এ তালিকায় গরীর বা অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ রেখে ধনী ও পাঁকা বাড়ীর মালিক স্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের স্থান দেওয়া হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার শেখ শাহাদাৎ হোসেন বাচ্চুর যোগসাজশে এ অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ও রাড়–লী ইউপি নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ও সাবেক কমান্ডার গাজী রুহুল আমীন আনীত অভিযোগ সত্য দাবি করে সরেজমিনে পুণঃতদন্ত করে বীর নিবাস ঘরের তালিকা করার দাবী করেছেন। এ সম্পর্কে কমিটি সদস্য সচিব উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার সরদার আলী আহসান বলেন, উপজেলা কমিটিতে যাচাই অন্তে প্রস্তাবিত ১২ মুক্তিযোদ্ধার নাম মন্ত্রনালয় অনুমোদন দিয়েছেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে সংসদের সাবেক কমান্ডার ইউএনও প্রতিনিধি শেখ শাহাদাৎ হোসেন বাচ্চু জানান, আমি একা নই, কমিটির সবাই মিলে তালিকা করা হয়েছে। ব্যক্তি স্বার্থে কোনো মুক্তিযোদ্ধার ঘর দেওয়া হয়নি। নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকল্প কমিটির সভাপতি মমতাজ বেগম বলেন, বীর নিবাস আবাসন প্রকল্প পূর্বে একটি তালিকা অনুমোদন হয়েছে। এখন মুক্তিযোদ্ধারা যেহেতু অভিযোগ করেছেন সেহেতু তদস্তপূর্বক বিষয়টির সমাধান করা হবে। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, পুর্ণবাসনের জন্য প্রকৃত পক্ষে অস্বচ্ছল ও গরীব মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঘর দিতে হবে। কোনো ব্যক্তির ইঙ্গিতে তালিকায় ধনীদের স্থান দিয়ে অনিয়ম করলে সেটাও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।