অযন্ত আর অবহেলায় জ্ঞানের বাতিঘর খুলনার পাইকগাছায় বাণিজ্যিক নগরী কপিলমুনি পাবলিক লাইব্রেরি নিভু নিভু অবস্থা। খুলনা জেলার দক্ষিণ তীর্থভূমী বলে খ্যাত উপজেলার কপিলমুনি (বিনোদগঞ্জ)। এখানে নিভু নিভু অবস্থা থেকে কপিলমুনি পাবলিক লাইব্রেরি জ্ঞানের প্রদীপের আলো ছড়াতে ভবনের পুনঃনির্মাণ শুরু হয়েছে। ভগ্নদশা থেকে উঠে আনতে বদলী জনিত বিদায়ী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি ভবন পুন:নির্মাণে উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কপিলমুনি গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা রহিমা আক্তার শম্পা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কলামিস্ট মহাদেব চন্দ্র সাধু, কপিলমুনি প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সামসুল আলম পিন্টু, সহ-সভাপতি মুন্সি রেজাউল করিম মহব্বত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম আবদুর রহমান ও জি এম আসলাম হোসেন, প্রেসক্লাব পাইকগাছা সাধারণ সম্পাদক মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, সহ সভাপতি আ. সবুর আল-আমিন, পাইকগাছা সাংবাদিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শেখ সেকেন্দার আলী, সাংবাদিক জি এম মোস্তাক আহমেদ ও যুবলীগ নেতা আনন্দ মোহন বিশ্বাস প্রমুখ। আলোকিত খাঁটি মানুষ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে জ্ঞানপিপাসু সাংস্কৃতি মানুষের নিরলস অক্লান্ত পরিশ্রমে ২০০৩ সালে লাইব্রেরি যাত্রা শুরু করে। অবহেলায় দীর্ঘদিন পড়ে থাকার ফলে ময়লার ধ্বংস স্তুপে পরিণত হয়। ধ্বংস হয় মূল ভবন কাঠামো ও আসবাসপত্র। ভবনটি পুনঃনির্মাণে সাংবাদিক এস এম আবদুর রহমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী প্রার্থনা করনে। ইউএনও সাড়া দিয়ে প্রথমে ৬৫ হাজার টাকা ও ৪০ পিচ টিন প্রদান করেন। শুধু অর্থ আর টিন নয় সাথে বিভিন্ন লেখকের মূল্যবান বই প্রদান করেন। ভবন পুনঃনির্মাণ উদ্বোধন শেষে তিনি বলেন, জ্ঞানার্জন আর মননশীল চর্চার আলোক শিখা প্রজ্ঞলনে লাইব্রেরির বিকল্প নেই। আমি যেখানেই থাকি না কেন সব সময় সহযোগিতা থাকবে। উল্লেখ্য ২০০৩ সালে ২২ আগস্ট জ্ঞানার্জন আর মননশীল চর্চার জ্ঞানের বাতিঘর কপিলমুনি পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তৎকালীন পাইকগাছা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এএফএম মনজুর কাদির এ প্রতিষ্ঠানটির শীলান্যাস করেন। তার সাহসী অভিযাত্রায় এলাকার ১৬জন বিশিষ্ট ব্যক্তির সমন্বয় গঠিত হয় ‘কপিলমুনি পাবলিক লাইব্রেরি’ প্রথম আহ্বায়ক কমিটি ও গঠনতন্ত্র প্রনয়ন সাব-কমিটি। সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রার দিক নির্দেশনায় গঠনতন্ত্র প্রনয়নে সাব-কমিটির আন্তরিক সহযোগীতা করেন। যার ফলস্বরূপ গত ইং ২৯সেপ্টেম্বর-২০০৩ উপস্থিতিতে খসড়া গঠনতন্ত্র আহ্বায়ক কমিটির সকল সদস্যদের বুদ্ধি দীপ্ত পরামর্শের মধ্যদিয়ে চুড়ান্ত গঠনতন্ত্র করা হয়। অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রাবন্তিক সহযোগিতা ও মতামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে ২০ অক্টোবর ২০০৩ সালে ভিত্তি প্রস্থর স্থাপনের মাধ্যমে লাইব্রেরি যাত্রা শুরু হয়। পরিচালনা পরিষদের মেয়াদ দীর্ঘ প্রায় অর্ধযুগ আগে উত্তীর্ণ হয়েছে। ২৭ সদস্য নিয়ে ১মে ২০০৪ সালে প্রথম কার্যকরী পরিষদ গঠন হয়। ২০০৭সালে ২৬ অক্টোবর দ্বিতীয় কার্যকরী পরিষদ গঠন করা হয়। গঠনতন্ত্র মতে কার্যকরী পরিষদের মেয়াদ কাল ৩ বছর। তার পর থেকে আজও কমিটি গঠন করা হয়নি। নতুন করে আবার আলো ছড়াতে নিভু নিভু অবস্থা থেকে কপিলমুনি পাবলিক লাইব্রেরি ভবনের পুনঃনির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত শেষে জ্ঞানের বাতিঘর প্রজ¦লিত হবে এমনটা আশা করে জ্ঞানপিপাসু এ জনপদের মানুষ।