সদ্যসমাপ্ত খুলনার পাইকগাছায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সমর্থনকারীসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয় পদ-পদবী ধারীরা গোপণে বা প্রকাশ্যে নৌকার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা ও বেঈমানী করার অভিযোগ উঠেছে। দল মনোনীত পরাজিত প্রার্থী ও বিজয়ী চেয়ারম্যান ও নির্বাচনে পরীক্ষিত নেতা-কর্মীরা দলে শুদ্ধি অভিযানের দাবী তুলে এসব মীরজাফরদের দল থেকে বহিস্কারের দাবী করেছেন। নির্বাচনী কাজে অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বিজয়ী চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, কেএম আরিফুজ্জামান তুহিন, কাজল কান্তি বিশ্বাস, আ. মান্নান গাজী, কওসার আলী জোয়ার্দ্দার সহ দলীয় কর্মীরা জানান, দলে পদে থাকা অনেক নেতা-কর্মীরা দলের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন অথচ তারা জামাত-বিএনপির আদর্শের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সাথে গোপণ আঁতাত সহ অর্থ গ্রহণ করে দলীয় প্রার্থীদের বিরোধিতা করেছেন। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ, সংসদ, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এসব বিপদগামী নেতা-কর্মীরা দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিরোধীতায় লিপ্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক দলীয় নেতা-কর্মীরা জানান, মাঠ পর্যায়ে জনপ্রিয়তার প্রকৃত জরীপ না করে দুর্নীতিবাজ ও অগ্রহযোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন করা, এমনকি মনোনয়নে অর্থ বাণিজ্য ও দলের অভ্যন্তরিন বিরোধের কারণে ক্ষোভ থেকে অনেকেই দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে থাকেন। এ সম্পর্কে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু বলেন, নৌকার প্রার্থী সহ দলীয় সূত্রের ভিত্তিতে নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছিলেন তাদের তালিকা তৈরী করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা কমিটিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, ইউপি নির্বাচনের পূর্বে পাইকগাছায় দলের বিশেষ বর্ধিত সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ ও সম্পাদক অ্যাড. সুজিত অধিকারী ষোষণা দেন ইউপি নির্বাচনে যে সব দলীয় নেতা-কর্মী নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিবেন তাদেরকে দল থেকে চিরতরে বহিস্কার করা হবে।