খুলনার পাইকগাছায় চেতনা নাশক স্প্রে ব্যবহার করে চুরি আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মঙ্গবার রাতে উপজেলার গোপালপুর গ্রামে একই পরিবারের চারজনকে অজ্ঞান করে নগত টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরি করা হয়েছে। অজ্ঞানকৃতদের উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এনিয়ে গত ১৫ দিনে তিন বাড়িতে একই ঘটনা ঘটলেও পুলিশ এপর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি। উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত বক্স গাজীর পুত্র আবদুল হামিদ গাজী বাড়ির লোকজন মঙ্গলবার রাত ১১ টার দিকে তাদের বাড়ির দুটি রুমে মিনারুল গাজী (৪২), আবদুল হামিদের স্ত্রী রেহানা বেগম (৩৮) ও তার মা জরিনা বেগম (৭০) ঘুমাতে যায়। আবদুল হামিদ গাজী জানান, আমাদের ঘরের জানালা খোলা থাকায় রাত আনুমানিক দুইটার দিকে চেতনা নাশক স্প্রে করে বলে ধারণা করছি। আমার স্ত্রী জানালার পাশে কাউকে দেখতে পেয়ে আমাকে ডাকলেও আমি সহ বাড়ি সবাই অচেতন থাকি। আমার যখন জ্ঞান ফেরে তখন দেখি আমাদের পরিবারের চারজন হাসপাতালে। রেহানা বেগম জানান, আমরা অচেতন হয়ে পড়লে জানালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে ঘরে থাকা সোনার গহনা, নগত ১৭ হাজার টাকা ও কানে থাকা দুল খুলে নিয়ে পালিয়ে যায়। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের এক সেনা কর্মকর্তার বাড়িতে সেনা সদস্য সহ পরিবারের চার সদস্যকে চেতনা নাশক স্প্রে করে বাড়িতে থাকা সোনার গহনা ও নগত টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ হয়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার লস্কর ইউপির উত্তর খড়িয়ার অজিত গাইনের বাড়িতে পরিবারের চার সদস্যকে চেতনা নাশক স্প্রে করে নগত ৬০ হাজার টাকা ও কয়েক ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় অজ্ঞাতদের নামে ১৭ সেপ্টেম্বর অভিযোগ করা হয়। একের পর এক এলাকায় এমন ঘটনা ঘটায় মানুষের ভিতর আতঙ্ক সহ উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ এজাজ শফী জানান, চেতনা নাশক স্প্রে করে মানুষের সম্পদ চুরি করে নেয়ার বিষয়টি আমি নিজেই তত্বাবধান করছি। অচিরেই এই সংঘবদ্ধ চক্রটি ধরা পড়বে বলে আশা করছি।