বগুড়ার সারিয়াকান্দির বিস্তির্ন চরের জমিতে মরিচ চাষের জন্য বর্তমানে ব্যস্ত হয়ে পরছেন চাষীরা। নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে সন্ধা পর্যন্ত মরিচ চাষের জন্য জমিতে কাজ করছেন। ছেলে-বুড়ো সবাই মরিচের জমিতে হাত লাগিয়েছেন। এরইমধ্যে ১২’শ হেক্টর জমিতে মরিচের বীজ বপন করেছেন চরের চাষীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার জেলার মরিচের খ্যাতি দেশ জুড়ে। তবে এ মরিচ বেশির ভাগই চাষ হয়ে থাকে পূর্ব বগুড়ার ধুনট, গাবতলী, সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলায়। উপজেলা গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ মরিচের চাষ হয়ে থাকে সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীর বিভিন্ন চরাঞ্চলে। কাজলা, চালুয়াবাড়ী, কর্ণিবাড়ী, হাটশেরপুর, বোহাইল ও সদর ইউনিয়নের কিছু অংশ জুড়ে হয়ে থাকে মরিচ চাষ। কিছু দিন আগে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই চরের জমিতে পরেছে উর্বর পলি মাটি। হরেক রকম ফসলের চাষাবাদে এখন বর্তমানে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন চাষীরা। তবে সবচেয়ে বেশি চাষ করছেন মরিচ ফসল। এটি একটি অর্থকরি ফসল হওয়ায় চরের চাষীরা নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে মরিচ চাষের জমিতে কাজ করছেন। উপজেলা কৃষি দপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, এবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৪ হাজার হেক্টর জমি। এরইমধ্যে চরের চাষীরা ১২’শ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের জন্য বীজ বপন শেষ করেছেন। কর্মকর্তারা এও বলেছেন, ভাদ্র মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে তা আগামী আর্শ্বিন মাসের শেষ পর্যন্ত চলবে এই মরিচ চাষ।
কুতুবপুর ইউনিয়নের পারদেবডাঙ্গা ফিসপাস গ্রামের কৃষক খায়রুল ইসলাম বলেন, আমি এ মৌসুমে দেড় বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করবো। জমিতে বীজ বপনের জন্য জমির প্রস্তুতি প্রায় শেষ দিকে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: আবদুল হালিম বলেন, চরের চাষীদের কাছে মরিচ একটি অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত। চাষের শুরু থেকেই মরিচ ঘরে তোলা পর্যন্ত হারভাংগা পরিশ্রম করতে হয় চাষীদের। আমাদের মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা জমিতে মরিচের উৎপাদন এবং মান বাড়াতে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।