আগামী ২০ সেপ্টেম্বর দিঘলিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে সাধারণ নির্বাচন। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দিঘলিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণা জমে উঠেছে। আর মাত্র তিন দিন পরেই উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় মূলত আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর সাথে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
দিঘলিয়া সদর ইউনিয়নঃ এ ইউনিয়নে লড়াই হবে দ্বিমুখী। এ ইউনিয়নে দুই জন আওয়ামী লীগ এবং একজন যুবলীগের পদধারী প্রার্থী। তিন জনই জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্যা ফিরোজ হোসেন। যিনি নানা কারণে গত ৫ বছরে বিতর্কিত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে ইউপি সদস্যদের অনাস্থা। শুধু ইউপি সদস্যরাই নয় তাঁর থেকে বঞ্চিত হয়েছেন দিঘলিয়ার সাধারণ মানুষ। মন চাইলেই প্রতিবাদ করতে পারে নি। মনের কষ্ট ও ক্ষোভ নিয়েই কাটিয়ে দিয়েছেন ৫টি বছর। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে মাঠে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য ও তিনবার এ ইউনিয়ন থেকে নির্বাচিত প্রাক্তন চেয়ারম্যান মোঃ হায়দার আলী মোড়ল। যিনি দীর্ঘ ১৮ বছর চেয়ারম্যান হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেছেন সুনাম ও সফলতার সাথে এবার নির্বাচণে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে এলাকা সূত্রে জানা যায়। অপর দিকে শক্ত অবস্থানে আছেন আর একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা যুবলীগ নেতা প্রাক্তণ প্রয়াত খুলনা- ৪ আসনের সংসদ সদস্য, এ ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান শেখ সাহিদুর রহমানের ভাইপো শেখ আতিকুল ইসলাম।
সেনহাটী ইউনিয়নঃ এ ইউনিয়নে মূলত লড়াই হবে দ্বিমুখী। দু’জনই চন্দনীমহল গ্রামের ঐহিত্যবাহী গাজী পরিবারের সদস্য। একজন গাজী পরিবারের বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে গাজী জিয়াউর রহমান ওরফে জিয়া গাজী। যিনি গত ৫ বছরে সফলতার সাথে সেনহাটিবাসীর ক্ষেদমত করেছেন। তিনি গত ৫ বছরে সেনহাটির গণমানুষের মন জয় করতে পেরেছেন। তিনি সেনহাটি ইউনিয়ন থেকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, ইপটিজিং, নেশাদ্রব্যের আমদানি ও বিক্রয় দমন ও জুয়া খেলা বন্ধ করে মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। তাই তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন এটায় সেনহাটিবাসীর প্রত্যাশা। অপর দিকে আর একজন প্রার্থী শক্ত অবস্থানে আছেন এক সময়ের দিঘলিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা, প্রাক্তন ইউপি চেয়ারম্যান, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের প্রাক্তন প্রচার সম্পাদক, দুর্বৃত্তের হাতে নিহত প্রয়াত গাজী আঃ হালিমের সহধর্মিণী ফারহানা হালিম। যিনি খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য, প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য ও প্রাক্তন সেনহাটী ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন।
বারাকপুর ইউনিয়নঃ এ ইউনিয়নে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গাজী জাকির হোসেন। যিনি গত ৫ বছরে নানা কারণে বিতর্কিত হওয়া সত্বেও আওয়ামী লীগের কোন বিদ্রোহী প্রার্থী কিংবা শক্তিশালী কোন বিরোধী প্রতিদ্বন্দ্বি না থাকার কারণে গাজী জাকির হোসেন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। এ ইউনিয়নে তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে শক্ত অবস্থানে আছেন বারাকপুর বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সতন্ত্র প্রার্থী শেখ আনছার আলী।
গাজীরহাট ইউনিয়নঃ এ ইউনিয়নে লড়াই হবে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বনাম আওয়ামী লীগের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে। এ ইউনিয়নে দীর্ঘদিন যাবৎ চেয়ারম্যান ছিলেন আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য ও প্রাক্তন খুলনা- ৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ মোল্যা জালাল উদ্দিন। বর্তমানে এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মোল্যা জালাল উদ্দিনের জৈষ্ঠ্য পুত্র উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী হেলাল। গতবারের ন্যায় তিনি ও এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। তাঁর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোল্যা মফিজুল ইসলাম ঠান্ডু। যিনি আ'লীগের দুঃসময়ের পরীক্ষিত এবং ত্যাগী নেতা হিসেবে এলাকায় পরিচিত। বিগত ৩ বার এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে তিনি নিরাশ হয়েছেন। এবারও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে নিরাশ হয়েছেন। তাই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে মাঠে আছেন।
যোগিপোল ইউনিয়নঃ এ ইউনিয়নে লড়াই হবে ক্ষমতাসীন তিন আওয়ামী লীগের নেতার মধ্যে। অত্র ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন নগরীর খানজানআলী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ আনিছুর রহমান। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে বেশ শক্ত অবস্থানে মাঠে রয়েছেন খানজাহান আলী থানা যুবলীগের আহ্বায়ক ও প্রাক্তন জেলা পরিষষদ সদস্য সাজ্জাদুর রহমান লিংকন। অন্য বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন খানজান আলী থানা আওয়ামী লীগ নেতা মাষ্টার মনিরুল ইসলাম।
আড়ংঘাটা ইউনিয়নঃ অত্র ইউনিয়নে লড়াই হবে মূলত বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন চেয়ারম্যানের মধ্যে। বর্তমানে এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি মোঃ মফিজুর রহমান জিবলু। যিনি গত ৫ বছরে নানা কারণে এলাকায় বিতর্কিত হয়েছেন। এবারও তিনি দলীয় মনোয়ন পেয়েছেন। এ ইউনিয়নে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে মাঠে আছেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান এস এম ফরিদ আকতার।
বর্তমানে এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি মোঃ মফিজুর রহমান জিবলু। যিনি গত ৫ বছরে নানা কারণে এলাকায় বিতর্কিত হয়েছেন। এবারও তিনি দলীয় মনোয়ন পেয়েছেন। এ ইউনিয়নে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে মাঠে আছেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান এস এম ফরিদ আকতার।