শখের বশে ছাগল পালনে চাকুরীজীবি দম্পতি সাফল্য পেয়েছেন। স্বামী এসএস শাহিনুর রহমান রাজু ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে চাকুরী করেন। তাঁর স্ত্রী সেলিনা আক্তার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। দু'জনের সমন্বয়ে গড়ে তুলেছেন বিদেশি ছাগলের খামার। কাছের আত্মীয় ও প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে পরামর্শ নিয়ে এ খামার গড়ে তোলেন তাঁরা। খুলনার পাইকগাছায় রাড়–লী গ্রামে বাড়ির পাশেই তিন শতক জমির উপর এ খামার গড়ে তোলা হয়। চারটি ছাগল দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে সেখানে ছাগল রয়েছে ৩২টি। ইতিমধ্যে ২ লাখ টাকার তোতাপুরি জাতের ছাগল বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এ খামারে রয়েছে ভারতের তোতাপুরি, হরিয়ানা, পাকিস্তানি বিটল, ওসমানিবাদ ও সংকর জাতের ছাগল। শাহিনুর রহমান রাজু বলেন, এখানে বিদেশি জাতের ছাগলগুলো কোনোটি পাবনা আবার কোনোটি রাজস্থান থেকে বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে আনা হয়েছে। শিক্ষিকা সেলিনা আক্তার জানান, ‘ছাগলগুলোকে খড় ছোট করে কেটে, বুটের ডাল, সয়াবিন খইল, ভুট্টা ভাঙা, ভুসি মিশিয়ে লবণ-পানি দিয়ে খেতে দেই। পাশাপাশি ঘাসও খাওয়ানো হয়। শাহিনুর বলেন তিনি যখন সময় পান, তখন দেখাশোনা করেন। বাকি সময় আমার স্ত্রী দেখাশোনা করে।’শিক্ষিকা সেলিনা আক্তার আরো বলেন, ‘ছাগলগুলো বেশির ভাগ সময় আমি দেখাশোনা করি। আমার স্বামী খুলনায় চাকুরি করায় খুব কম সময় পান। শিক্ষকতার পাশাপাশি এগুলোর দেখাশোনা করা তেমন সমস্যা হয় না। আমার ছেলের নামেই ফার্মটির নাম রাখা হয়েছে, আরিয়ান গোট ফার্ম। এই মূহুর্তে আমার ফার্মে প্রায় ৮ লাখ টাকার ছাগল রয়েছে। তাদের প্রতিদিন দুইবার খাবার দিতে হয়। এতে খরচ হয় প্রায় ৮ হাজার টাকা। তিনি আরও বলেন, বিটল ছাগলের চাহিদা বেশি। একটি পূর্ণবয়স্ক বিটল ছাগলের দাম প্রায় ৭০ হাজার টাকা। একটি বাচ্চা বিটলের দাম ৩৫ হাজার টাকা। এই ছাগলগুলো হরিণের মতো দেখতে। এরা খুব শান্ত প্রকৃতির। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বিষ্ণুপদ বিশ্বাস বলেন, ‘শাহিনুর ও তাঁর স্ত্রী সেলিনা আক্তার শিক্ষিত খামারি। তাঁরা চাকুরির পাশাপাশি ছাগল পালন করছেন। আমাদের সঙ্গে তাঁদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে এবং তাঁদের সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছি।