খুলনা মহানগরীতে আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে ভবঘুরেদের আনাগোনা। তাদের চলাফেরা, কথাবার্তা দেখে-শুনে প্রথমে মানসিক প্রতিবন্ধী মনে হলেও, প্রকৃতপক্ষে তা নয়। ফলে এসব ভবঘুরেদের আনাগোনায় শঙ্কিত সাধারণ মানুষ। তাছাড়া তাদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই পুলিশ ও সমাজ সেবা অধিদফতরে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর রয়্যাল মোড়, ডাকবাংলো মোড়, পিকচার প্যালেস মোড়, বাংলাদেশ ব্যাংক মোড়, টুটপাড়া কবরখানা মোড়, রূপসা ট্রাফিক মোড়, ময়লাপোতা, নিরালা মোড়, গল্লামারী, ফেরীঘাট মোড়, শিববাড়ী, নিউমার্কেট, খালিশপুর কাস্টমস মোড়, গোয়ালখালী মোড়, দৌলতপুর, রেলীগেট ট্রাক স্ট্যান্ড, সোনাডাঙ্গা বাইপাস রোড মিলিয়ে বিভিন্ন স্থানে অর্ধশতাধিক এধরণের ব্যক্তি রয়েছেন যাদের কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা নেই। সারাদিন পথে পথেই থাকেন। বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁর সামনে খাবারের জন্য দাঁড়িয়ে থাকেন। কেউ কিছু দিলে খান, না দিলে চলে যান। রাত হলে অন্যত্র চলে যান। গোয়ালখালী বাসস্ট্যান্ড মোড়ে নাম পরিচয়হীন এ ধরনের একজনকে সারাদিন দেখা যায়, দেয়ালের পোস্টার লিফলেট ও খবরের কাগজ ছিঁড়তে। কাস্টমস মোড় এলাকার ব্যক্তিটি পুরো স্যান্ডেল জড়ো করেন। ডাকবাংলো মোড় এলাকার ব্যক্তিটি কল্পিত কোনো ব্যক্তির উদ্দেশ্যে অশ্রাব্য গালিগালাজ করেন।
জানা গেছে, সাধারণ মানুষ ‘পাগল’ মনে করে তাদের নিয়ে খুব বেশী আগ্রহ দেখান না। তবে তারা কোথা থেকে এসেছে এবং কেন নির্দিষ্ট কতগুলো এলাকা বেছে নিয়ে সেখানেই রাতদিন অবস্থান করেন এবং মাঝে মাঝে লাপাত্তা হয়ে যান- এ প্রশ্নের উত্তর কারো কাছে মেলেনি।
নগরীর ডাকবাংলো এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, মাঝে মাঝে একজনকে দেখি,‘ ভিনদেশী’ ভাষায় কথা বলে। কিছু খেতে দিলে খায়, না হলে চুপ করে চলে যায়। রাতে ফুটপাতে ঘুমায়। কখনো কখনো কয়েক দিনের জন্য লাপাত্তা হয়ে যায়, আবার ফিরে আসে। এদিকে খুলনা শহরে এমন কিছু লোক ঘোরা ফেরা করে যাদের নির্দিষ্ট কোন কাজ নেই। সকালে ঘুম থেকে উঠে গ্রাম থেকে শহরে পা দেয়।দুপুরে বা বিকালে ভ্যান ভর্তি রকমারি বাজার নিয়ে বাড়ি ফিরে। সারা দিন শহরে কি কাজ করে এটা আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার ক্ষতিয়ে দেখা দরকার। কোন কাজ না করে অর্থের উৎস কোথায় সেটা ক্ষতিয়ে দেখা সময়ের দাবী।
কেএমপি’র (বিশেষ শাখা) অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. শাহজাহান শেখ বলেন, নগরীর ভাসমান, ভবঘুরেদের বিষয়ে কোনো তথ্য আমাদের হাতে নেই। সন্দেহজনক কাউকে মনে হলে তাকে আমরা আইনের আওতায় এনে থাকি।
খুলনা জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক খান মোহাতার হোসেন জানান, নানা ধরণের সীমবদ্ধতার কারণে ইচ্ছে থাকলেও ভবঘুরেদের পুনর্বাসনে সমাজ সেবা কার্যালয় তেমন কিছু করতে পারছে না। বিভাগীয় শহর খুলনায় কোনো ভবঘুরে পুনর্বাসন কেন্দ্র নেই। সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।