বিরলে আসামি গ্রেফতারের বিষয় নিয়ে পুলিশের সাথে গ্রামবাসীর ধস্তাধস্তি! পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় মসজিদের ইমামের থাকার শয়ন ঘর থেকে গভীর রাতে নিরীহ ২ ব্যক্তি গ্রেফতারের ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। গ্রেফতার আতঙ্কে এলাকাটি পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। পুলিশের দাবি আসামি গ্রেফতারে বাঁধা ও পুলিশের উপর হামলা করেছে আসামীর পরিবারের লোকজন। অপরপক্ষে পুলিশ ঘরবাড়ী তল্লাশীর নামে গভীর রাতে লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীর। উপজেলার রাণীপুকুর ইউনিয়নের কজিপাড়া (পশ্চিমপাড়া) গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।
ওই গ্রামের খাদেমুল হক ওরফে নুরজামাল এর স্ত্রী মোছাঃ মেহেরুণ নেছা জানান, সোমবার রাতে বাড়ীর প্রধান দরজা বুলেটের ন্যায় শব্দ করে লাথি মেরে খোলার জন্য কয়েকজন পুরুষ মানুষের উচ্চস্বর পেয়ে ঘুম ভাঙ্গে আমার। স্বামী বাড়ীতে না থাকায় দরজা খুলতে অপারগতা প্রকাশ করলে বিভিন্ন অকথ্যভাষায় গালমন্দ করে পুলিশ পরিচয় দিলে দরজা খুলে দিতেই হুড়মুড় করে কয়েকজন পুলিশ সদস্য শয়ন ঘরে প্রবেশ করে। আমি কিছু বলে উঠার আগেই আসবাবপত্র ভেঙ্গে আমার স্বামীর ব্যবসার নগদ ৭ লাখ টাকা ও আমার ৪ ভরি ওজনের স্বর্ণের অলংকার সোকেস থেকে লুট করে নেয় ঘরের ভেতরে প্রবেশকারী পুলিশ সদস্যগণ। আমার ছেলেকে আটক করে নিয়ে যেতে চাইলে আমি বাঁধা দিতে গেলে আমাকে ধাক্কাধাক্কি করে কাপড় ধরে টেনে আমার শ্লীলতাহানী ঘটায়। আমার আত্মচিৎকারে প্রতিবেশিরা এগিয়ে এলে তাঁদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। প্রতিবেশি সাজ্জাদ হাসেনের স্ত্রী নাজমুন নেহার চিৎকার চেঁচামেচি শুনে এগিয়ে এসে ২ টি পিকআপ ভ্যান ও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলযোগে অনেক পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি দেখেছেন ও ঘটনার বিবরণগুলো শুনেছেন বলে জানান।
আকতারুল ইসলামের স্ত্রী রুবিনা বেগম জানান, রাতে অতর্কিতভাবে বাড়ীতে প্রবেশ করে ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে ঘরের কোঠার উপরে উঠে কি খুঁজছিল উনারা? আমাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা মোকদ্দমা নাই, তারপরও আমাদের বাড়ীতে গভীর রাতে পুলিশের কি কাজ? পুলিশের এধরণের আচরণের প্রতিবাদ করি এবং অতিউৎসাহী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
এলাকার নাদির হোসেন, বদরুল আজাদ ও রফিকুল ইসলামসহ অনেকে জানান, পুলিশের অতর্কিত মারমূখী আচরণ ও মসজিদের ইমাম থাকার ঘরের দরজা ভেঙ্গেস ঘর থেকে রাতে ঘুমন্ত নিরীহ ২ জনকে আটক অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সরজমিনে তদন্ত পূর্বক প্রকৃত হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহার করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এছাড়াও পুলিশ ওই গ্রামের অনেকের বাড়ীর দরজায় আঘাত করে ক্ষতি ও ভাংচুর করে রাত আড়াইটা হতে শুরু করে প্রায় ভোর ৫টা পর্যন্ত গ্রামটিতে তান্ডব চালায় বলে জানান এলাকাবাসী। এঘটনার পর থেকে এলাকাটিতে পুলিশ আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে পুলিশের তান্ডব, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মঙ্গলবার বিকালে এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন মামলা দায়েরের সংবাদ পাওয়া যায়নি।
থানার ওসি (তদন্ত) শেখ ফরিদ উদ্দিন জানান, একটি মারামারির ঘটনায় নুরজামাল এর ছেলে মেহেদী হাসান (২২) কে ৮/৮ নং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ আজাদ মিয়াসহ সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স সোমবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করতে গেলে পরিবারের লোকজন বাঁধা প্রদান করে। একপর্যায়ে তাঁদের মারপিটে এস আই মোঃ আজাদ মিয়া, এ এস আই মোঃ শফিক, কন্সস্টেবল রাশেদ আহত হোন। ঘটনায় রাতেই সরকারি কাজে বাঁধা প্রদানের বিষয়ে এস আই মোঃ আজাদ মিয়া বাদী হয়ে ২৫ জন নামীয়সহ অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় ৬ নং মামলা রুজু করা হয়। আটককৃত আমজাদ হোসেনের পুত্র হাফেজ মোঃ স্বপন (২২) ও মনজুর হোসেনের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন (৫০) এজাহার নামীয় আসামি বলে নিশ্চিত করেন বিরল থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ ফখরুল ইসলাম।