খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় স্কুলছাত্রীকে সিরিজ ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার দুই দিন অতিবাহিত হলেও অভিযুক্ত সৈয়দ মোঃ শাহীন গ্রেপ্তার হয়নি। অপরদিকে ধর্ষণের সাথে আরো কেউ জড়িত থাকলেও একটি মহলের অশুভ ষড়যন্ত্রে তলিয়ে যাচ্ছে তাদের নাম যেনন ওই এলাকার বাসিন্দা মেয়ের তৎক্ষণিক স্বীকারোক্তি ও এলাকার লোকজনের দাবীতে সাহাদাত নামক ব্যক্তিকে রাতে গ্রেফতার করলেও পরদিন বিকালে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ বলছে গ্রেফতার করলেও বাদী সাহাদাতকে আসামি করেনি তাই তাকে বাদীর জিম্মায় দেওয়া হয়েছে কিন্তু মামলা তদন্তাধীন। ধর্ষনের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্য কেউ জড়িত থাকলে কেউই পার পাবে না। উল্লেখ্য যে, ওই ধর্ষন ঘটনার সাথে জড়িত এলাকার একাধিক ব্যক্তির নাম শোনা যাচ্ছে।
এদিকে ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত আসামি সৈয়দ মোঃ শাহীন পঞ্চাশোর্ধ বয়সী। পিতা মৃত সালেহ আহন্মেদ। ২৫ বছর আগে বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ থেকে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফরমাইশাখানা ৭ নং ওয়ার্ডে স্ত্রীসহ বসবাস শুরু করে। চাকুরী করতো সেনহাটী সাগর জুট মিলে। এদিকে এই ধর্ষন মামলাকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার জন্য লোক জানাজানির রাতে সাহাদাতকে পুলিশ গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে গেলে একটি মহলের গোপন দরবার হয়। এবং সাহাদাতের স্ত্রী জনৈক স্বর্ণকারের নিকট থেকে লোন তুলে আনা হয়। ওই টাকা কি কারণে তোলা হয়েছে এবং কোন কাজে ব্যয় হয়েছে, এবং এ ঋণ কার কার নামে তোলা হয়েছে এরহস্য উন্মোচন হলেই ধর্ষণ ঘটনা পুরাপুরি রহস্য উন্মোচন হবে বলে এলাকায় গুঞ্জণ উঠেছে। অপর দিকে খুঁজে বের করতে হবে জেসমিন নামে মেয়েটিকে যে ধর্ষণ রহস্যের সাথে জড়িত এবং একটি মহল তাকে এলাকা থেকে অজ্ঞাত কারণে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। সকলের মাঝে জিজ্ঞাস্য কে এই জেসমিন?
উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর সকালে ফরমাইশখানা ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ধর্ষিতার হতদরিদ্র বাবা স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ হারুন অর রশীদের সহায়তায় দিঘলিয়া থানায় হাজির হয়ে সৈয়দ মোঃ শাহীনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১, তাং ০১/০৯/২০২১। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর মেয়েকে গত ২ জানুয়ারী থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ৮ মাসে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। এদিকে ফরমাইশখানা ধর্ষণের সাথে আরো কেউ কেউ জড়িত আছে এমন সংবাদ প্রকাশের পর সাহাদাৎ ও ছরো খান এলাকা থেকে পালিয়েছে। অপর দিকে সাহাদাতের ঘরে শুধু স্কুল ছাত্রী নয় রীতিমত আরও অনেক মেয়েকে ফুসলিয়ে নিয়ে আসত সেই মেয়েটিও এলাকা ছেড়ে আগেই পালিয়েছে বলে এলাকার বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
ইন্সপেক্টর (তদন্ত) দিঘলিয়া থানা রিপন কুমার সরকার বলেন, অভিযুক্ত শাহীনকে গ্রেপ্তারের জন্য আমরা জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন ধর্ষিতা তাকে ধর্ষকের ব্যাপারে শাহিনের নাম বলেছে। বাদী তাঁর অভিযোগে শুধু শাহিনকেই আসামি করেছে। মামলা তদন্তাধীন। ধর্ষণের ব্যাপারে অন্য কেউ জড়িত হয়ে পড়লে কেউই ছাড় পাবেনা। উল্লেখ্য যে ধর্ষণ ঘটনা রটনার শুরু থেকে শাহিন, সাহাদাৎ ছাড়াও ধর্ষিতার প্রতিবেশি ছরো খানের নাম শোনা যাচ্ছে।