খুলনা আঠারোমাইল বেতগ্রাম থেকে কয়রা পর্যন্ত ৬০কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজের শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পুরোনো সড়কের ব্ল্যাক টপের মেয়াদোত্তীর্ণ বিটুমিন অপসারণ না করে সেখানেই খোয়া ও বালু সন্নিবেশ করে কার্পেটিংয়ের প্রস্তুতি চলছে। এতে সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। এ ছাড়া এ সড়কের বাঁক সরলীকরণ, পেভমেন্ট মজবুতকরণ ও আরসিসি কালভার্ট নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের খুলনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩৩৯ কোটি ৫৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকা চুক্তি মূল্যে ‘বেতগ্রাম-তালা-পাইকগাছা-কয়রা সড়ক মজবুতকরণ ও বাঁক সরলীকরণ প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। প্রায় ৬০ কিলোমিটার দৈর্ঘের এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজ। এ প্রতিষ্ঠানটি এর আগে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক পুনঃনির্মাণ কাজ করেছে। বছর না ঘুরতেই ওই সড়কটি বেহাল হয়ে পড়ায় প্রতিষ্ঠানটির একই ধরনের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এলাকাবাসী। এলাকাবাসী জানায়, এ সড়ক দিয়ে রাজধানী শহর ঢাকাসহ কয়রা, পাইকগাছা এবং পার্শ্ববর্তী সাতক্ষীরার আশাশুনি ও তালা উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ জেলা শহরে যাতায়াত করেন। তা ছাড়া মাছ ও পণ্য পরিবহনের জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে এ সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। যে কারনে সড়কের উন্নয়নের জন্য এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বড় প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। কিন্তু শুরুতেই প্রকল্পের কাজ নিম্নমানের অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সড়ক সঠিক পরিমাপসহ বিভিন্ন বাজার অভ্যন্তরে আরসিসি গাইডওয়ালে নি¤œমানের ইট ব্যাবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া এ সড়কের বাঁক সরলীকরণ, পেভমেন্ট মজবুতকরণ ও আরসিসি কালভার্ট নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। কয়রা মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আকবর হোসেন বলেন, প্রত্যন্ত জনপদের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা সুগম করতে এবং ব্যবসায়িক উন্নয়নের স্বার্থে সড়কটি মজবুতকরণের জন্য যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। কিন্তু বরাদ্দ অনুযায়ী কাজের মান ভালো হচ্ছে না। মনিরুজ্জামান মনির নামে স্থানীয় একজন ঠিকাদার বলেন, পুরোনো সড়কের ব্ল্যাক টপের মেয়াদোত্তীর্ণ বিটুমিন অপসারণ না করে এর ওপর কার্পেটিং করা হলে বেশিদিন টিকে থাকার কথা নয়। কারন, সড়কটি দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ছে। ফলে ভারী যানবাহন চলাচল শুরু হলে সড়কের ওপরের অংশ সহজেই দেবে বা ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি এর আগে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে একই পদ্ধতিতে কাজ করায় সেখানে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজের প্রকল্প সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সওজের প্রকৌশলীদের নির্দেশনা মেনে এবং প্রকল্প অনুসরণ করেই কাজ করা হচ্ছে। এর আগে পুরোনো সড়কের ব্ল্যাক টপের বিটুমিন ফেলে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এবার নতুন পদ্ধতিতে কাজ হচ্ছে। সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজিম কাওছার বলেন, পুরোনো সড়কের ব্ল্যাক টপের বিটুমিন ল্যাব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ায় সেটি ব্যবহারে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, এতে সমস্যা হবে না। সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন, প্রকল্পের কাজে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না হয় সেদিকে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। যে কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে তা ঠিক করে দেওয়ার চেষ্টা করব।