খুলনার পাইকগাছায় ১০টি ইউনিয়নে ও পৌরসভায় যত্রতত্র নিয়মনীতি উপেক্ষা বিক্রী করা হচ্ছে দাহ্য পদার্থ। নূন্যতম নিরাপত্তা ব্যবস্তা ছাড়াই ঝূকিপূর্ণ দাহ্য পদার্থ অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল ও এলপি গ্যাস মুদি দোকান থেকে শুরু করে সড়ক ও রাস্তার অলিগলীতে বিক্রী করা হচ্ছে। নেই কোন লাইসেন্স বা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীরব। সেনেটারী ইন্সপেক্টর উদয় কুমার মন্ডল জানান, উপজেলায় পেট্রোল, অকটেন ও এলপি গ্যাসের প্রায় ২শতাধিক দোকান রয়েছে। যাদের কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। উপজেলার গড়ইখালী ইউনিয়নের মুদি দোকান গৌতম মন্ডল জানান, প্রায় ১৫বছর ধরে পেট্রোল বিক্রী করে আসছি। কোনো দিন কেউ লাইসেন্স দেখতে চাইনি। আর অকটেন, পেট্রোল বিক্রী করতে লাইসেন্স লাগে এই সর্বপ্রথম জানলাম। পৌরসদরের ব্যবসায়ী মেসার্স জয়মা এন্টারপ্রাইজের মালিক উজ্জ্বল সরকার জানান, পরিবেশের ছাড়পত্র সহ দাহ্য পদার্থ বিক্রির জন্য সব ধরনের লাইসেন্স রয়েছে। তিনি আরো জানান এ উপজেলায় তানবির এন্টার প্রাইজ জোবান আলী, আসিফ ফিলিং হাফিজুর রহমানের বৈধ কাগজ রয়েছে। আর অধিকাংশরাই অবৈধভাবে এসব দাহ্য পদার্থ বিক্রী করছে। কপিলমুনি, সোলাদানা, লস্কর, চাঁদখালী, গদাইপুর, রাড়-লী বাজারের কয়েকজন গ্যাস সিলিন্ডার ও খুচরা দাহ্য পদার্থ বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আইন-কানুন সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। অথচ প্রতিদিন গ্যাস সিলিন্ডার, অকটেন, পেট্রোল বিক্রি করেছে। বাণিজ্যিক শহর কপিলমুনি দাহ্য পদার্থ বিক্রির একজনের লাইসেন্স থাকলেও লাইসেন্স বা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ছাড়া বিক্রি করছে প্রায় বিশ জন। আর উপজেলায় সব কয়টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা মিলে প্রায় দু’শতাধিক জন বিক্রি করছে। পাইকগাছা নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির প্রতিষ্ঠিতা সভাপতি অ্যাড, প্রশান্ত কুমার মন্ডল জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে খোলা বাজারে এসব ঝূকিপূর্ণ দাহ্য পদার্থ বিক্রি বন্ধ করা উচিত। আসিফ ফিলিং স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান জানান, সরকারি বিধি মোতাবেক গ্যাস সিলিন্ডার, পেট্রল, মবিল বিক্রির জন্য কমপক্ষে ফ্লোর পাকাসহ আধপাকা ঘর, ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ লাইসেন্স, অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার, মজবুত ও ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগার থাকতে হবে। একজন ব্যবসায়ী ওই সব শর্ত পূরণ করলেই কেবল বিস্ফোরক লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, দাহ্য পদার্থ বিক্রির সুনির্দিষ্ট বিধিমালা আছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত লাইসেন্স ছাড়া যত্রতত্র অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল কিংবা এলপি গ্যাস বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। জড়িতদের বিরুদ্ধে অচিরেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।